প্রিয়ার কাজলমাখা চোখের মতো সুন্দর যে উর্দু ভাষা- তার শ্রেষ্ঠ কবি মির্জা গালিব। কেবল উর্দু ভাষার নয় এবং নয় উপমহাদেশের হৃদয়তটের, বরং গালিব বিশ্বসাহিত্যের এক অনন্য- আনোখা চরিত্র। তার কবিতা ও ব্যক্তিত্ব দুই-ই নিয়ে শিল্পানুরাগীদের মাঝে রয়েছে তুমুল হইচই। সময় যত এগোচ্ছে গালিব ততই জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন, ছড়িয়ে পড়ছেন দেশ-কাল-সীমানা ছাড়িয়ে। গালিব যেন ঘোমটা দেওয়া এক লুকায়িত সুন্দর এবং ভাদুরের আকাশে মেঘে ঢাকা পূর্ণ চাঁদ- মহাকাল তাকে উন্মোচন করছে ধীরে ধীরে।
মির্জা গালিবের সময় ছিল অখণ্ড ভারতবর্ষের যুগসন্ধিক্ষণ- যখন ভেঙে পড়ছে কয়েক শতাব্দীর দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোগল সাম্রাজ্য, তারই ভেতর দিয়ে উত্থান ঘটছে ব্রিটিশ শাসনের। গালিব সাক্ষী হয়েছেন আজাদির প্রথম লড়াইয়ের। একইসঙ্গে সাহিত্য ও ইতিহাস- দুই জায়গায় গালিব তার গুরুত্ব নিশ্চিত করেছেন। কবিতা যেমন লিখেছেন বেদনা ও বিরহের অশ্রু মেখে তেমনি আঠারোশো সাতান্ন সালে সিপাহি বিদ্রোহের দিনলিপি লিখেছেন দিল্লি শহরের রক্ত দিয়ে।
অনেক বছর হলো মির্জা গালিব মারা গেছেন। অনেক দূরের নক্ষত্রের মতো আজও তার আলো আমাদের আঙিনাকে ছুঁয়ে যায়। আজও দোলা দিয়ে যায় তার হৃদয়চেরা শের ও গজল। এ বই সেই মৃত গালিবের সঙ্গে আমাদের সফর। এখানে গালিবের পিছুপিছু আমরা হেঁটে যাব ইতিহাসের গলিঘুপচি ধরে। এই সফর শুরু হবে আগ্রা থেকে। তারপর আমরা যাব দিল্লি, লখনৌ, কানপুর, এলাহাবাদ, পাটনা, বেনারস, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, রামপুর। মোগলীয় হুকুমত থেকে শুরু হয়ে এই যাত্রা শেষ হবে ব্রিটিশ রাজে। কতো কান্না রক্ত ও নৃশংসতা যে পেরিয়ে যাব আমরা! পথে-পথে গালিব আমাদেরকে শোনাবেন তার কবিতা ও কিসসা।