আসুন, আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিই লেমুয়েল গালিভারের সঙ্গে। সে কে?
একজন কৌতূহলী, বুদ্ধিদীপ্ত ইংরেজ সেই সঙ্গে আপনার পথপ্রদর্শকও! আপনাকে পথ দেখিয়ে সে নিয়ে যাবে পৃথিবীর অদ্ভুত, অচেনা সব প্রান্তরে। কখনও জাহাজডুবি, কখনও বন্দিত্ব, আবার কখনও সম্পূর্ণ অচেনা সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে গালিভার হাজির হয় নতুন নতুন ভূখণ্ডে। যেমন ধরুন লিলিপুটের কথা, যেখানে ছ-ইঞ্চি আকৃতির মানুষরা ডিম ভাঙা নিয়ে যুদ্ধ করে, কিংবা বলা যায় ব্রবডিংনাগের কথা, যেখানে দানবাকৃতির মানুষদের কাছে সে নিছক এক খেলার পুতুল! ভাবছেন, এখানে শেষ? উঁহু, আমরা কিছুদিন পরেই তাকে আবিষ্কার করি এক ভাসমান দ্বীপে, যেখানে রাজত্ব করে উদাসীন বিজ্ঞানীরা, এবং শেষমেষ এমন এক দেশে যেখানে সুশীল, বুদ্ধিমান ঘোড়ারা। আর মানুষ? মানুষ সেখানে শুধু একধরনের নোঙরা পশু!
প্রত্যেকটা দেশ যেন এক-একটা আয়না যেখানে তাকিয়ে গালিভার দেখতে পায় এক কঠিন সত্য: যাদের সে দেশে রেখে এসেছে, বোধহয় আসল দানব তারাই!
আংশিক রূপকথা, আংশিক ব্যঙ্গ গালিভারস ট্রাভেলসকে এছাড়া আর কোনোভাবে ঠিক ব্যাখ্যা করা যায় না। দুঃসাহসিক একেকটি অভিযানের আড়ালে লেখক তুলে ধরেছেন গভীর এক প্রশ্ন: ক্ষমতা, অহংকার, আর মানবতা আসলে কোন মুখোশে লুকিয়ে থাকে?