অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ চেয়ে এতটাই আলাদা ছিলেন যে, কোনো দুই ব্যক্তি একে অপরের চেয়ে এতটা বেশি আলাদা হতে পারেন না। তৎসত্ত্বেও, নিয়তি পুল্লী বাঈয়ের পুত্র ও মিঠি বাঈয়ের পুত্রকে একসূত্রে বেঁধে দিয়েছিল, যেমনটি সম্ভবত এ দু'জনের প্রজন্মে ছিলো না। দু'জনই গুজরাটিভাষী পরিবারে জন্মেছিলেন; দু'জনেই ম্যাট্রিক পাশ করেছিলেন বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে; দু'জনই আইন পড়তে লন্ডনে গিয়েছিলেন; উভয়েই দাদাভাই নওরোজীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য কাজ করেছিলেন- পাশাপাশি ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে ভারত- পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য দু'জনই সংগ্রাম করেছিলেন। এটি অক্ষুণ্ণ ছিলো, যতদিন না জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্ব উভয়ের চলার পথকে ভিন্নমুখি করে দেয়। এতদসত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে সাদৃশ্য অব্যাহত ছিলো। স্বাধীন ভারত কর্তৃক একজন জাতির পিতার অভিধায় ভূষিত হন, অন্যজন নবসৃষ্ট পাকিস্তানের জাতির পিতার খেতাব পান। এবং তাঁরা দু'জনই মৃত্যুবরণ করেন তাঁদের জাতি গণপ্রজাতন্ত্রে পরিণত হওয়ার আগেই।