একুশ শতকের ভোরে বাংলাদেশের ছোটগল্পের মহোৎসবে কথাশিল্পী জায়েদ ফরিদ তাঁর গল্পসম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছেন। পাঠের পর তাঁর প্রতিটি গল্প নতুননিত্যনতুন তরতাজা শিল্পসুষুমায় প্রজাপতির পাখায় পাখায় উড়ে বেড়ায় পাঠকমনে
মহাপ্রকৃতিরই একটি অংশ মানব-মানবীর মানসপ্রকৃতির নিটোল দ্বৈরথ-আঁকা ভাষার আঁচড়ে রচিত একেকটি গল্প । রঙচঙা কাপড় দেখলে রেলিঙয়ে বসা গাঙচিলেরা উড়ে যেতে চায়—গঙ্গামণি ময়লাটে একটা শাদা রঙের কাপড় পরেই বের হয়, বালুচরের শাদা রঙেই ওরা বেশি অভ্যন্ত। গাঙচিলগুলি রেলিঙয়ে নদীর দিকে মুখ করেই বসে ছিলো— গঙ্গামণি বের হবার পর তার দিকে মুখ করে বসে। সে দুখানি বাসি রুটি নিয়ে যায় সঙ্গে । দুয়েকটা গাঙচিল গঙ্গামণির কাঁধে এসে বসে। তাজা মাছ খাওয়া তাদের অভ্যাস, ক্ষুধার্ত না-থাকলে রুটির টুকরা মুখে তুলতে চায় না। এ গল্প এমন এক মানবীর গল্প যে মানবী হয়েও গাঙচিলদের অবিস্মরণীয় মা।
*গাঙচিলের ডিম' গল্পগ্রন্থের ঝুড়িতে আরও আছে বাংলা ছোটগল্পের তপ্ত ভাণ্ডারের ডজনখানেক গল্প। প্রতিটি গল্পের বাস্তবতা ও শিল্প-বাস্তবতা এতটাই জীবনঘনিষ্ঠ যে পাঠককে তা অবিচ্ছেদ্য হৃদ্যতায় আলিঙ্গন করে। আধুনিক ছোটগল্পের ভুবনে নতুনতর স্বাদের গল্প নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন জায়েদ ফরিদ। আবহমান বাঙলার গ্রামজীবন থেকে নগর, এমনকি সুদূর মরুভূদেশের পটভূমিকায় বেদুঈন মাজরাতেও পাঠককে অভিভূত করেন তিনি।