জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিকী, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও নানা নামের ছোট কাগজগুলোতে বেশুমার গল্প ছাপা হচ্ছে। দু’চারটে গল্প ছাড়া অধিকাংশ গল্পই বায়বীয় পদার্থের মতো হাওয়া হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু কেন? কেন গল্পগুলো অমরত্বের পথে হাঁটছে না? কারণ, সরল বয়ান এবং একই প্রেক্ষাপটের চর্বিত চয়ন। কিন্তু এই গল্পগ্রন্থে জিল্লুর রহমান শুভ্র প্রিজমের মতো নানাবিধ আলো ফেলে গল্পগুলোকে নানা ঢংয়ে বিন্যাস করেছেন। বাস্তবতার সঙ্গে পরাবাস্তবতা ও শ্বাশত আবেগের মিশেল ঘটানো গল্পগুলো পাঠকদের মনস্তত্বের ভূগোলে জেগে ওঠে কুয়াশাবৃত হিমশৈলের মতো; যা একদিকে চিত্তাকর্ষক অন্যদিকে প্রপঞ্চময়। তিনি সোডিয়াম ও ফ্লুরেসেন্সের আলোর নিচে বসবাস করলেও নিভৃতচারী পল্লিকথকের লেপ মুড়ি দিয়ে কুপির আলোয় পুঁথিপাঠ ও হেমন্তের ফসল কাটার গান শুনতে পান; ফলে তার গল্পে নাগরিক জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না, রিরংসা ও কদর্য অন্ধকার যেমন ধরা পড়ে, তেমনি গ্রামীন চরিত্রগুলোও সেলুলয়েডের মতো জীবন্ত। তাছাড়া, রাজনীতি সচেতন মানুষ হিসেবে ৪৭-এর দেশভাগ ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বয়ান তার অনেক গল্পে উঠে এসেছে নির্মোহ ও নির্মম সংবেদনশীলতায়। পাঠক, বাড়িয়ে বলছি না। নতুন স্ট্যাইলে তার গল্পের বুনন ও ভাষার চমৎকারিত্ব সমানভাবে আপনাদের মুগ্ধ করবে।