বিশ্বে যেসব মহান ব্যক্তিদের জন্ম নিয়েছেন তার মধ্যে অসাধারণ সাহিত্য প্রতিভা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি জগৎকে দেখিয়েছেন ঋষিসুলভ কর্মপ্রবাহের মধ্য দিয়ে সাহিত্য রচনায় রূপায়ণে, বিচারে ও ব্যাখ্যায় চিরন্তন প্রবাহকে। তার ব্যক্তি জীবনের সাহিত্যকৃতি কোনো একক মানুষের উপলব্ধি করা বিস্ময় মাত্র। এই মহামানবের জীবনী মানুষের ইতিহাসে অত্যন্ত দুর্লভ। বাংলাসাহিত্য সার্থক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার বিজয়ের মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ থেকেই ছোটোগল্পের সার্থক সূচনা। তাঁর কাছে আমাদের প্রাপ্তির শেষ নেই।
তিনি আজও আমাদের সবচেয়ে সার্থক ও পাঠকপ্রিয় ছোটোগল্পকার। তিনি নোবেল বিজয় করেছেন কবিতার মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাসাহিত্যে তাঁর গল্পের সমাদর সবার আগে। রবীন্দ্রনাথই বাংলা সাহিত্যে প্রথম আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের সংকীর্ণতা ও অকিঞ্চিৎকর বহির্বিকাশের দিক থেকে জীবনে তলদেশে যে নিভৃত ফল্গুধারাটি তা আমাদের দেখিয়ে দিলেন। রবীন্দ্রনাথের ছোটোগল্পগুলোর রচনা যে সময়টাতে আরম্ভ হয়, এবং জীবনের যে পর্বটিতে অধিকাংশ গল্পগুলো রচিত হয়, সেই উদ্ভব ও বিকাশের সময়ের প্রতি একটু লক্ষ রাখলে, তাঁর ছোটোগল্পের উৎস ও ধর্মকে আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব।
তাঁর বেশিরভাগ গল্প রচিত হয়েছিল বাংলা ১২৯৮ থেকে ১৩১০ সালের মধ্যে। অবশ্য তারপরেও আরও কয়েকটি সুপ্রসিদ্ধ গল্প ১৩১৪ থেকে ১৩২৫ সালের মধ্যে লেখা হয়েছিল। সর্বমোট ৯৫টি ছোটোগল্প থেকে এ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ৯০টি গল্প স্থান পেয়েছে।