মুহাম্মদ ফরিদ হাসান বহুমাত্রিক প্রতিভার নিরবচ্ছিন্ন কুশিলব। সাহিত্য গবেষণা ও বিশ্লেষণসহ মৌলিক সৃষ্টিকর্মে তাঁর ভূমিকা অনবদ্য। কবিতার পথে তাঁকে দেখা গেলেও গদ্য তাঁর প্রধান ক্ষেত্র। সবকিছুর পাশাপাশি ফরিদ ছোটদের গল্পও লেখেন, যা দেখে অভিভূত হতে হয়। চমৎকার গদ্যে একেবারে শিশু পাঠকের জন্য তার গল্প নির্মাণকৌশল অতুলনীয়। তার ছাপ দেখতে পাচ্ছি ১২টি গল্প নিয়ে ফরিদের ‘গল্পগুলি পুচ্চিদের’শিশুতোষ গল্পগ্রন্থে। ছোট পরসরে, ছোট-ছোট কোমল সহজ বাক্যবন্ধনে রচিত এই গ্রন্থের প্রতিটি গল্পই স্বতন্ত্র চমক।
একদম শিশুদের নিয়ে, তাদের জন্য সুখপাঠ্য ১২টি গল্প, বিচিত্র বিষয়সমৃদ্ধ ‘গল্পগুলি পুচ্চিদের’। গল্পে এসেছে একদম শৈশবের চঞ্চলতা, স্কুল ও ক্লাসরুম খুনসুটি, বন্ধুদের ছোট-ছোট দ্বন্দ্ব ও রেষারেষি, পাখি, প্রজাপতি ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্ক আর ভৌতিক, জাদু বা স্বপ্নের বিষয়াবলি। ছোটদের জন্য চিরাচরিত গল্পে প্রবেশের আকর্ষণ ধরে রাখার মশলাপাতিও আছে গল্পগুলোতে।
প্রথম গল্প ‘জাদুর বাংলা বই’, ‘রাশেদ ও নীল ভূত’, ‘পার্থ রহস্য’-সহ প্রতিটি গল্পই হালকা রহস্য, একটু একটু চমক আর গল্পের উপাদানে হয়ে উঠেছে ছোটদের প্রকৃত খাঁটি সাহিত্য- যাকে আমরা বলি শিশুসাহিত্য।
প্রকৃত শিশুতোষ গদ্যের এখন আকাল চলছে আমাদের সাহিত্যে। এরকম সময় মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের শিশুতোষ এই গল্পগ্রন্থটি মেঘে ঢাকা আকাশে একটুকরো আলোক। শুধু শিশু-কিশোর নয় এই বইটি তাদেরও পড়া উচিত যারা শিশুর জন্য নিখাঁদ একটি সাহিত্য ডোমেন-এর স্বপ্ন দেখেন।
অভিনন্দন মুহম্মদ ফরিদ হাসানকে। সেই সঙ্গে প্রকাশককেও।
-ফারুক হোসেন
শিশসাহিত্যিক ও ছড়াকার