বইয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
জঙ্গলের গভীরে, যেখানে আলো আর ছায়া খেলা করে, প্রকৃতি প্রতিদিনই শেখায়-ধৈর্য, সততা এবং মিলেমিশে থাকার গুণ। এই জঙ্গলের প্রাণীরা তাদের আনন্দ ও দুঃখের মধ্যে খুঁজে পায় জীবনের ছোট বড় পাঠ। গুগি ও ফোকলা, দু'জনই ভিন্ন চরিত্রের, কিন্তু দু'জনের মধ্যেই নিহিত আছে শেখার এক গভীর সম্ভাবনা। গুগি সংযত, শান্ত, অন্যদের খুশি রাখতে ইচ্ছুক; ফোকলা চটপটে, লোভী এবং কখনও অহংকারে ভরা। অন্ধকার গুহা থেকে বের হওয়ার পর হাতি চায় সবাই মিলেমিশে আনন্দ করতে, কিন্তু বানরের বুদ্ধি শুরু করে দৌড় প্রতিযোগিতা, যা শুধু উত্তেজনা নয়, শেখায় কিভাবে প্রতিযোগিতা ও বন্ধুত্ব একসাথে থাকতে পারে। দৌড়ের মাঝখানে বিভ্রান্তি, হাঁচি-কাশি এবং হট্টগোলের মধ্যেও শিয়ালের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ বোঝায়-ফোকলা লেজকে তৃতীয় পা বানিয়ে দৌড়াচ্ছে। এটি কেবল শারীরিক দক্ষতার কাহিনি নয়; এটি শেখায়, জীবনে কখনও কখনও কৌশল, বুদ্ধি ও সততার মিলেই সত্যিকারের বিজয় আসে। সকালের রোদ উঠার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় ফোকলা দুই পায়ে দৌড়াচ্ছে, মাঝে মাঝে তৃতীয় পা ব্যবহার করছে, যা সবাইকে বিস্মিত করে। গুগি কখনো আগে, কখনো পেছনে থেকে সাহায্য করছে, শিখিয়েছে-সাহায্য করা মানেই শক্তি। জঙ্গলের প্রাণীরা আনন্দে নাচছে, হাসছে, দেখায়-সুখ ভাগ করে নেওয়াই প্রকৃত আনন্দ। শেষে ফোকলা ফাস্টর্ হলেও গুগি ইচ্ছাকৃতভাবে হেরে যায়, অন্যদের খুশি রাখতে। বাঘের নির্দেশে ফলাফল ঘোষণা করা হয়-ফোকলা ও গুগি দু'জনেই জিতেছে। বানরের খিকখিক, হাতির হাততালি, জিরাফের হিসাব-সব মিলিয়ে জঙ্গলে শেখার বার্তা ছড়ায়: রাগ, অহংকার বা লোভ নয়, মিলেমিশে থাকা, সততা ও আনন্দই প্রকৃত বিজয়। ফোকলার লাজুক হাসি, গুগির আনন্দ এবং জঙ্গলের শান্তি মনে করায়-জীবন শুধু দৌড় নয়, বরং প্রতিটি পদক্ষেপই শেখার ও আনন্দের সুযোগ।