গুপি যদিও একটা ছাড়া আর গান জানত না, কিন্তু সেই একটা গানই সে বারবার, খুব করে গাইত। সেটা না গেয়ে সে একটুও থাকতে পারত না। তার দম আটকে আসত। যখন সে ঘরে বসে গাইত, তখন তার বাবার দোকানের খদ্দের সব ছুটে পালাত। যখন সে মাঠে গিয়ে গান গাইত, তখন মাঠের যত গরু সব দড়ি ছিঁড়ে পালাত। শেষে তার ভয়ে তার বাবার দোকানে আর খদ্দেরই আসে না, রাখালেরাও মাঠে গরু নিয়ে যেতে পারে না। তখন একদিন কানু কাইন তাকে বড় একটা বাঁশ নিয়ে তাড়া করল। সে ছুটে মাঠে চলে গেল। সেখানে রাখালের দল লাঠি নিয়ে তাড়া করল। তখন বেচারি বনের ভিতর গিয়ে খুব করে গলা ভাঁজতে লাগল। গুপিদের গ্রামের কাছেই আরেকটা গ্রামে একজন লোক থাকত। তার নাম ছিল পাঁচু পাইন। পাঁচুর ছেলেটির আবার বড্ড ঢোলক বাজাবার শখ। বাজাতে-বাজাতে সে বিষম ঢুলতে থাকত, পা নাড়ত আর চোখ পাকাত, দাঁত খিঁচোত আর ভ্রুকুটি করত। তার গ্রামের লোকেরা তা দেখে হাঁ করে থাকত আর বলত, আহা! আ-আ-আ!! অ-অ-অ-হ-হ-হ!!!