মস্ত বড় বন। ঘন গাছের শাখায় শাখায় জড়াজড়ি, পাতায় পাতায় নিবিড় ছায়া। লতা পাকে পাকে জড়িয়ে উঠেছে গাছের চূড়ায়-ফুটেছে নানা রঙের ফুল। বিবিধ বর্ণের পাখি-তাদের বিচিত্র কুজন কলরব। সূর্যের আলো এসে পড়েছে শাখার ফাঁকে ফাঁকে ঝরা পাতার ওপরে-মনে হয় কে যেন নিপুণ হাতে আল্পনা এঁকে রেখেছে। সমগ্র অরণ্যে মহান গাম্ভীর্য-অভিনব সৌন্দর্য! এই বনের পাশে কুটির বেঁধে বাস করে জাফর। সংসারে তার কেউ নেই-কোনো বন্ধনই তাকে গৃহে ধরে রাখতে পারেনি। নির্জনে খোদার সাধন-ভজন করার সুবিধে হবে ভেবে লোকালয় ছেড়ে চলে এসেছে বনে। প্রতিদিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে নদীতে গোসল করে জাফর খোদার ধ্যান করতে বসে। দুপুরবেলা বন থেকে কিছু ফলমূল সংগ্রহ করে আনে। অপরাহ্নে নদী তীরে একা একা ঘুরে বেড়ায়-সন্ধ্যাবেলা সাধনায় নিমগ্ন হয়। এমন করে তার দিন কাটে।