এক সময় মধ্যবিত্ত বাঙালী গৃহে পুঁথি পাঠ করা হত। পুঁথি পাঠ করা হত কাহিনীর জন্য, রূপকের জন্য, অলৌকিকতার জন্য এবং অবাস্তব কাহিনী মাধুর্যের জন্য। এ সব কারণে পুঁথি পাঠ করতেন হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে। ডঃ সুকুমার সেন বলেছেন, তাঁর গৃহে প্রবীণরা মুসলমানদের পুঁথি পাঠ করে আনন্দ পেতেন। এগুলো বাস্তব কাহিনী ছিল না। এগুলো অবাস্তব লালিত্যে গঠিত হত। অধিকাংশ ছিল প্রেমের কাহিনী এবং সেই প্রেমের কাহিনীর মধ্যে পরীদের গল্প থাকতো, জ্বীনদের তাৎপর্যময় আচরণ থাকতো।
শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত সকল মানুষ এগুলো পাঠে আনন্দ পেত। এ পুঁথিতে জীবনচর্চা থাকতো না, বাস্তব মানুষের আনাগোনা থাকতো না, এগুলোতে অবিশ্বাস্য কাহিনী মানুষের চিত্তে আনন্দ দিত। বাংলাদেশে একটা সময় ছিল যখন আমাদের দেশে ইংরেজি চর্চা আরম্ভ হয়নি। সেকালেই পুঁথিগুলো পাঠ হত।