হেডস্যার বরাবরই খুব খটমটে এবং রাগি স্বভাবের, একথা ইশকুলের সবাই জানে। সহজে কেউ হেডস্যারের সামনে পড়তে চায় না। যদি জিগ্যেস করে এ্যাই, কোথায় যাচ্ছিস?। সদুত্তর দিতে না পারলে সেখানেই কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখবে খানিকক্ষণ। হাতে লাঠি থাকলে হাত পাততে বলবে। তারপর সপাং সপাং দুইটা বাড়ি দিয়ে হাতের তালু লাল করে দেবে। ৫ম শ্রেণিতে এমনিতেই ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কম। মাত্র আট জন। সবাই সেই প্রথম শ্রেণি থেকে এই ইশকুলে পড়াশোনা করছে। গ্রামের ইশকুল। ১ম শ্রেণিতে ২৫ জন ভর্তি হলে ৫ম শ্রেণিতে উঠতে উঠতে অনেকেই ইশকুল ছেড়ে দেয়। ক্ষেতখামারের কাজে লেগে যায়, নয়তো অন্য কোনো কাজে। এবছর ৫ম শ্রেণিতে যারা নিয়মিত ক্লাস করছে তারা সংখ্যায় আট জন। মানিক, হাসান, মাখন, রুমা, শিখা, শাহানা, বকুল আর লাবলু।