হেঁটেছি বৈরী পথে' কাব্যগ্রন্থে হতাশা আর দুঃখবোধ অনুপুঙ্খ বেদনা আর কষ্ট হয়ে বেশির ভাগ কবিতার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। কবির সেইসমস্ত কবিতা জুড়ে রয়েছে বিষণ্ণতার এক ধ্রুপদী প্রয়োগ। এই বিষণ্ণতার সৃষ্টি জীবন চলার পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহুমাত্রিক বৈরিতা থেকে। কবি যেন বৈরী পথে হেঁটে চলেছেন অনন্তকাল, আর এই চলার পথে তার একান্ত অনুভবকে তিনি এঁকেছেন নিপুণভাবে কষ্ট আর অভিজ্ঞতার মিশেলে। এই অনুভবের সবখানেই একটা মেদুর বিষণ্ণতা বিরাজ করছে। কাব্যগ্রন্থের বিভিন্ন কবিতায় কবি যে চিত্রকল্পের অবতারণা করেছেন, সেখানে মৃত্যু, জরা, অবসাদ, আত্মনিমগ্নতা, শঠতা, প্রবঞ্চনা, উপেক্ষা, বিরহ বারবার ফিরে এসেছে। আর বৈরী হাওয়ায় বেড়ে ওঠা এইসব উপাদান জীবনের জন্য কাঙ্ক্ষিত সব অনুষঙ্গকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর লেখায় হতাশা, বিষণ্ণতা আর আর্তি ফুটে উঠেছে চিরায়ত অলঙ্কার হিসেবে। এই বিষণ্ণতা এক একটি অনতিক্রম্য মৈনাকের মতো দাঁড়িয়ে আছে জীবনের প্রতিটি বাঁকে। নানা রূপকের মাধ্যমে কবি তাঁর অন্তর্গত হাহাকারের চরমতম গভীরতায় নিজেকে দেখেছেন, একলা বনস্পতির মতো অনুভব করেছেন খিন্ন নিঃসঙ্গতা, আর তাঁর কবিতায় সেই অবসাদ প্রতিফলিত হয়েছে অক্লেশে। সবশেষে তিনি যেন হয়েছেন বিষণ্ণত-ার এক নিবিষ্ট সাধক।
কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতায় আবার প্রেম আর স্মৃতিকাতরতার আধিক্য দেখা দিয়েছে। প্রেম, ভালোবাসা আর প্রকৃতি এই বৈরী বাতাসেও বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা হয়ে দেখা দেয় পুনর্বার। এইসব আশাজাগানিয়া কিছু বোধ বেজে উঠেছে ঐকতান আর চেতনাসঞ্চারী দীপ্র বীণ হয়ে কবির মননে।