সামাজিক কিছু অসঙ্গতি, কিছু অনাকাক্সিক্ষত আচার-আচরণকে উপজীব্য করে ‘হরিষে বিষাদে’ রচিত হয়েছে। হাস্যরস সৃষ্টির মাধ্যমে বক্তব্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়ার শৈল্পিক প্রচেষ্টা রয়েছে এ গ্রন্থে। রম্য রচনার গ্রন্থ হিসেবে এটা গাজী মিজানুর রহমানের দ্বিতীয় বই। এর আগে ‘জনান্তিক’ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল তার ‘হাস্যরসের ত্রিভুবন’।
রম্যলেখক হিসেবে গাজী মিজানুর রহমানের মনের মধ্যে বাস করে এক স্বপ্ন। লেখকের স্বপ্ন দেশ এবং জাতিকে ঘিরে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা যতই বিরূপ হোক না কেন, লেখক পৌঁছুতে চান একটা বন্দরে যেখানে নোঙর করা আছে ভালোবাসা, ন্যায়নীতি, সুবিচার, সুচিন্তার নৌযান। এটা তাকে প্রায়শ হাতছানি দেয়। নিষ্ঠুর বাস্তবতা থেকে পরিত্রাণ পেতে দু-চারদিনের জন্য পালিয়ে কোথাও যেতে চান তিনি। দেখে আসতে চান আগের বর্ষায় যে লাউ- গাছটার উপরে মাচান করে দেয়া হয়েছিল, তা বেয়ে বেয়ে কতটুকু বড় হয়েছে। দেখতে চান, যে পেয়ারা গাছটায় ফুল এসেছিল, তার ফল কতটা বড় হলো। বাস্তবের রুক্ষ ক্ষ্যাপাটে ভ‚-প্রকৃতির উপর দাঁড়িয়ে তিনি এভাবে নতুন দিগন্তের স্বপ্ন দেখান পাঠককে। রম্যরচনা আর ব্যাঙ্গরচনার মিশেল রয়েছে এ গ্রন্থের প্রতিটি লেখায়। তবে হিংসে নয়, শুভকামনার ঝাঁপিখানি মেলে ধরা আছে বক্তব্যের পাশে।