ইসলামের মহান নবী রসূলে করীম ইন্তিকাল করেন ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাস-১১ হিজরির ১২ই রবিউল আওয়াল, রোজ সোমবার।' এ অপ্রত্যাশিত দুঃসংবাদ দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর নব-
প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সমাজে নেমে এলো দারুণ শোকের এক কালো ছায়া। বিশেষ করে মদিনাবাসীরা এক মর্মান্তিক বেদনায় হয়ে পড়লো অভিভূত, দিশেহারা ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কেউ কেউ শোকের প্রচণ্ড আঘাতে প্রায় অর্ধ-উন্মাদ। কারো কারো কাছে খবরটা স্রেফ অবিশ্বাস্য বলেই মনে হলো।
হযরতের চির ছায়া-সঙ্গী, সংযত-চিত্ত ও চির-প্রাজ্ঞ হযরত
আবুবকর-যিনি ইসলামের সব শিক্ষা ও সৌন্দর্যকে মনে-প্রাণে আত্মসাৎ করে আল্লাহ্-য়, আল্লাহর ধর্মে আর আল্লাহ্ নবীতে ছিলেন উৎসর্গিত-প্রাণ-এ দুঃসময়ে একমাত্র তিনিই রইলেন স্থির, শান্ত ও হিমাদ্রির মতো অচল, অটল। চারদিকের শোকের মাতম ও আহাজারিকে উপেক্ষা করে সর্বাগ্রে তিনিই মেনে নিলেন আল্লাহ্র অমোঘ বিধান-কায়মনোবাক্যে নিজেকে সঁপে দিলেন আল্লাহর হুকুমের তাঁবেদারিতে।
প্রাণ-ঢালা ভক্তির শেষ অর্ঘ্য আল্লাহ্র রসূলের চির-পবিত্র কপালে এঁকে দিয়ে এবার তিনি উদাত্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন: 'তুমি জীবনে যেমন ছিলে মধুর, মৃত্যুতেও তেমনি মধুর।'
তারপর শোকোন্মত্ত হযরত ওমরের দিকে তাকিয়ে, সারা মুসলিম জগৎকে শুনিয়ে শুনিয়েই তিনি যেন বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করলেন: 'যারা মুহম্মদকে পূজা করতো তারা জেনে রাখো মুহম্মদের মৃত্যু হয়েছে আর যারা আল্লাহ্ পূজা বা ইবাদত করতো তারা জেনে রাখো আল্লাহ্ বেঁচে আছেন, আল্লাহ্ মৃত্যু নেই।' ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐশী-প্রেমের এমন অভিব্যক্তি সত্যই দুর্লভ।