পৃথিবীর ইতিহাসে, তথা মানব-সভ্যতার ইতিহাসে, ইসলামের প্রতিষ্ঠা যে আশ্চর্যতম ব্যাপার তাতে সন্দেহ নেই। মরু-আরবের অধিবাসী, শতধা-বিচ্ছিন্ন ও ছন্নছাড়া এক বিশাল মানবগোষ্ঠীকে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)
তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্বের প্রভাব তৌহিদের মায়াডোরে বেঁধে এমন এক শক্তিশালী মহাজাতিতে পরিণত করেছিলেন, যার জয়গান একদা পৃথিবীকে মুখরিত করেছিল। সে জাতির কীর্তিগাথা স্মরণে আনতে আমাদের প্রাণে পুলকের সঞ্চার হয়; হৃদয় এক অভূতপূর্ব গৌরবের অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে সেই ছন্নছাড়া মনুষ্য উপাদান জগতের অলক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় সারা জাযিরাতুল আরবে বিক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু তপঃসিদ্ধ মহাপুরুষের সংস্পর্শে এসে সেই শতধা-বিচ্ছিন্ন খুনিয়ারা জাতি কল্যাণময় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং জগতের কুসংস্কারাচ্ছন্ন পুরাতন জাতিসমূহের ক্ষীয়মাণ সভ্যতার জীর্ণ খোলস উন্মোচিত করে সর্বত্র এক উন্নত সভ্যতার আলোকপ্রবাহ সঞ্চালিত করে। সে এক মহাবিস্ময়কর পরিবর্তন। আপাতদৃষ্টিতে এ কাজ মানবের অসাধ্য মনে হলেও একজন মানুষের জীবনব্যাপী সাধনার ফলে তা যে সত্যিই সম্ভবপর হয়েছিল, ইসলামের ইতিহাস তার জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করছে।
বিশ্বের এই আশ্চর্যতম ঘটনা (The greatest miracle) সংঘটিত হওয়ার কালে যে কয়জন মহাপ্রাণ ব্যক্তি নবির দক্ষিণ হস্তরূপে কার্য করেছিলেন, সুদিনে-দুর্দিনে, সুখে-দুঃখে, সকল অবস্থায় তাঁর পাশে থাকতেন এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও অকৃত্রিম সহযোগিতার দ্বারা মুসলিম জাতিকে জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সেই সাহাবায়ে কেরামদের ভেতর হযরত ওসমানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নবির দুই কন্যাকে বিবাহ করার জন্য তিনি 'ওসমান জুন্নুরায়িন', এই গৌরবময় নামে অভিহিত হয়েছিলেন এবং এই নামেই তিনি মুসলিম জাহানে সুপরিচিত।