আমাদের সমাজে মূলত ইবাদত বলতে নামায, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি নির্ধারিত কাজ কর্মকে বুঝানো হয়ে থাকে। প্রকৃত পক্ষে ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদতের অর্থ হচ্ছে ব্যাপক প্রসারিত। ইবাদত মানুষের সারা জীবনে ব্যান্ড। মানুষের জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মিনিট সবই আল্লাহর ইবাদতের শামিল বা অন্তর্ভুক্ত হবার দাবি করা হয়েছে ইসলামের পক্ষ হতে। وما خلقت الجن والإنس إلا لِيَعْبُدُونِ "আমি মানুষ ও জিনকে একমাত্র আমার ইবাদত করার উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছি।" ( আয- যারিয়াত: ৫৬) এর অর্থ হচ্ছে মানুষ সর্বাবস্থায় সার্বক্ষণিকভাবে আল্লাহ তা'য়ালার ইবাদত করবে। মানুষের নামায, রোজা, যেমন ইবাদত বলে গণ্য হবে তেমনি তার হালাল রুজির সন্ধান, সন্তান-সন্ততির লালন পালন ভরণ-পোষণ ইত্যাদিও ইবাদাতের অংশ। একজন মানুষ যখন রাস্তা থেকে একটা কাঁটা সরাবে, তখন তা ইবাদত বলে গণ্য হবে। মানুষ যখন অন্য মানুষকে রাস্তা চিনিয়ে দিবে তখন তাও ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। কোন ব্যক্তি যখন একজন পথচারীর বোঝা একটা রিকশায় বা যানবাহনে উঠিয়ে দিবে তখন তাও ইবাদত বলে গণ্য হবে। কোন ব্যক্তি যদি অন্য ব্যক্তির চিঠির খামের উপর ঠিকানা লিখে দেয় তা হলে তাও ইবাদতের মধ্যে শামিল হবে। অভাবীর অভাব পূরণ, মুখাপেক্ষীর সহযোগিতা সবই ইবাদত। কোন কৃষক বা চাষী যদি অন্য চাষীর ক্ষেতের আইলের ভাঙা অংশ মেরামত করে দেয় তাহলে তাও তার ইবাদত। অন্যের ক্ষেতের গরু-ছাগল অড়িয়ে ক্ষেতকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করাও ইবাদত। রোগীর সেবা, কাউকে হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, কাউকে শিক্ষালাভের সহযোগিতা করা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো, কাউকে সদুপদেশ দেয়া, কাউকে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া, বিয়ের উপযুক্ত কন্যার পিতাকে কন্যাকে বিয়েতে সহযোগিতা করা- সবই ইবাদত। তবে একটি শর্ত আছে, ইবাদতকারীর নিয়ত সহিহ হতে হবে। ইবাদতকারীর নিয়ত সহিহ না হলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে। রিয়া, লোভ, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ, স্প্রীহা সব কিছুই মানুষের নেক আমলকে বরবাদ করে দেয়। আর এসব বদগুণ ও বদ খাসলতের অধিকারী ব্যক্তি জাহান্নামের দিকে ধাবিত হয়। তার কোন নেক আমলই নেক আমল বলে গণ্য হয় না। পৃথিবীতে আরো যেসব ধর্ম আছে, সেগুলোতে ইবাদত কতিপয় সাপ্তাহিক বা মাসিক কিংবা বাৎসরিক উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ইসলামের ইবাদত কতিপয় আনুষ্ঠানিক ধ্যান-ধারণায় সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামের সাথে অন্য ধর্মের পাথক্য এখানেই।