সুফিবাদের উদ্ভব ঘটে ইসলামের শুরুর দিকে। পরবর্তীকালে এই দর্শনের রূপান্তরও লক্ষ করা যায়। ফলে আধুনিক সুফিবাদের সঙ্গে মূল সুফিবাদের পার্থক্য স্পষ্ট। তবে সহজভাবে বলতে গেলে এই দর্শনের প্রধান ভাব হলো নিজের নফসের সঙ্গে,সত্তার সঙ্গে,জীবাত্মার সঙ্গে,নেতিবাচক প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে তার থেকে মুক্ত হওয়া। অর্থাৎ পার্থিব জগতের মোহ থেকে আত্মমুক্তিই এর উদ্দেশ্য। সুফিবাদের আলোচনায় যে নামটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়,তিনি মাওলানা । বিশ্বের দেশে দেশে তিনি রুমি নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর জন্মস্থান,শৈশব,বেড়ে ওঠা ইত্যাদি নিয়ে নানা মতবিরোধ আছে। তবে তাঁর জীবনের গতিপথ পরিবর্তিত হয় শাম্স তাবরিজের সংস্পর্শে এসে। তিনিও ছিলেন তৎকালীন সুফিবাদী চিন্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধক। কনইয়া শহরে এই দুই সাধকের সাক্ষাতের ঘটনা,তাঁদের বন্ধুত্ব,কথোপকথন,তাঁদের প্রতি শহরের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি নানা ঘটনা অনেকটা গল্পের ছলে ইয়াসমিন রশিদ এই গ্রন্থে তুলে এনেছেন। সুফিবাদের জটিল বিষয় অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। ফলে বইটি সুখপাঠ্যও বটে।