ক্ষণস্থায়ী জীবন বৈচিত্র্যে ভরপুর। চলার পথ ঘটনাবহুল। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। কেটে যায় বছরগুলো। জীবন চলে এগিয়ে। ভূমিষ্ট হয় শিশু, পেরিয়ে যায় শৈশব, কৈশোর জীবনের বাঁকে বাঁকে। লেখকের জীবনের উজ্জ্বল-উচ্ছ্বল দিনগুলো কেটেছে নৌবাহিনীতে। সামরিক জীবনের প্রতিটি দিন একটি চ্যালেঞ্জ, একটি অভিযান, লক্ষ্য অর্জনের এক অবিচল সংকল্প। তবুও এ জীবন আনন্দে ভরপুর--উল্লাস, উচ্ছ্বাস ও আবেগে মধুময়। কি যেন এক আকর্ষণ--কি যেন এক উন্মাদনা।
শুরু করেছিলেন রম্য কথা দিয়ে ফেলে আসা দিনগুলোকে তুলে ধরতে। চলার পথে ছন্দে ছন্দে দেখেছেন কত কি! গল্প বলতে বলতে গল্পে গল্পে ভেসে উঠেছে চোখের দেখা আর মনের কথাগুলো। উঠে এসেছে বাঙালি জীবনের অমর কাহিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। ধর্মে-ধর্মে, বর্ণে-বর্ণে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ কি যে বেদনাদায়ক। খুঁজে পাননি বিশ্বাসে-অবিশ্বাসকে। পথ-ঘাটের স্মৃতি, সাগরের বিশালতা, উন্মুক্ত সী-গালের অপরূপ ডানা সবই কথায় কথায় মিশে গেছে। নৌজীবনের স্মৃতি এখনও ভাবিয়ে তোলে।
বলার অপূর্ব স্টাইল ও ভাষার সরলতা যেন এক আড্ডা। হয়ত আড্ডা শেষ হবে বইটির সমাপ্তিতে। পাতায় পাতায় কি যেন এক স্বাদ। গল্পে গল্পে ধরে রেখেছেন অনেক সহকর্মীদের। জীবন চলে জীবনকে ঘিরে। তারা সবাই চলে যাক মন থেকে মনে--খুঁজে পাক নিজেকে জীবনের কোলাহলে।