দেশি চেহারা নিয়েও আগন্তুক যে বিদেশি, সেটা তার বেশবাস ছাড়া তাকানো দেখেও বোঝা যায়। গন্তব্য ও মতলব বুঝতে চোখের দিকেও তাকায় অনেকে। চিনতে পারে না কেউ, দেখেওনি আগে। শহর থেকে মরা নদীর ঘাটে এসে লোকটার বসে থাকাটাও বেশ রহস্যময়।
আসলে নদী তো নেই হেথা, ঘাট আর নৌকাও নেই। জায়গাটার নাম তবু মরা নদীর ঘাট। ঘাট ছিল এককালে, যখন বাঁধ-রাস্তাটা ঘেঁষেই ছিল তিস্তা নদী। এখন তিস্তা পুরনো ভিটাবাড়ি ছেড়ে মাইল দেড়েক পুবে সরে গেছে, সেই সঙ্গে ঘাটও। ভাঙাচোরা বাঁধটা আছে তবু বাঁধের জায়গাতেই। পাকা রাস্তার মুখে বাঁধের উপরে ছোট্ট একটা বাজারও গজিয়ে গেছে।
গোটা চারেক খরো চালের ঘর ও টিনের দু'টি ঝুপরির দোকানপাট নিয়ে ঘাটের বাজার সরগরম থাকে সকাল-সন্ধ্যা। বাঁধ-লাগোয়া গাছতলায় ছোট টিনের ঝুপরি দোকানটা আগলে বসে থাকে একটি যুবতী মেয়ে।