কথায় বলে বাঘের গল্প, ভূতের গল্প আর সাপের গল্প— এর আরম্ভ হলে আর শেষ নেই। জিম করবেটের শিকারকাহিনি হিমালয়ের, তরাইয়ের সেই মানুষখেকো বাঘেদের মুখোমুখি করে পাঠককে। তবে করবেট সাহেবের লেখায় শুধু বাঘের ভয়ে সন্ধে হয় না কারণ শিকারির হৃৎকলমের টানে পাঠকও পড়তে শেখে বনের ভাষা। জানে প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক চিরকালীন শ্রদ্ধার, বোঝাপড়ার। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বনের পাখির, প্রাণীর স্বভাব সম্বন্ধে করবেটের ছিল সম্যকজ্ঞান, কারণ বাল্য তাঁর কেটেছে হিমালয়ের পাদদেশে, শালবনে, যেখানে পশুপাখি বাঘ ভালুক এবং হরিণের সঙ্গে তাঁর হয়েছে সাক্ষাৎ পরিচয়। করবেট জাতে সাহেব হলেও ছিলেন নিম্নবিত্ত ঘরের, পড়াশোনা শেষ স্কুলেই, আজন্ম কাটিয়েছেন সাধারণ, দরিদ্র মানুষের সঙ্গে। যাদের জন্য নিজ জীবন বিপন্ন করে বারবার মানুষখেকোর পেছনে ঘুরেছেন, শিকার করেছেন। চম্পাবতের মানুষখাকী, রুদ্রপ্রয়াগের চিতার হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করে গাড়োয়াল- কুমায়ুনে হয়ে উঠেছেন, ত্রাহি মধুসূদন। ভারতবর্ষের প্রথম ব্যাঘ্র অভয়ারণ্য তাঁরই নামে স্থিত। নরখাদক শ্বাপদ শিকারের জন্য যে মনের জোর, বুকের সাহস ও শ্রম দেওয়ার সামর্থ্য করবেট দেখিয়েছেন—আজও তা পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।