পাহাড়ে বসন্ত নেমেছে-ঝলমলে সূর্যের আলো, টলটলে নীল আকাশ আর মাঠগুলোয় যেন ফলে আছে সোনা-যেদিকে তাকাও শুধু হলদে সর্ষে। এক ঝলক বাতাসে নড়ে উঠল গম গাছের মাথা, গরবাল রাইফেলসের ভবন সিং-এর বুকেও দোলা দিল খুশির হাওয়া। সে বাড়ি এসেছে। ফ্রান্সের যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানকার ট্রেঞ্চগুলোতে শুধু মৃত্যু আর পচা লাশের গন্ধ এবং যে জায়গায় করডাইট আর মাস্টার্ড গ্যাসের ঘন কুয়াশার আবরণ ঠেলে কখনোই উঁকি দিতে পারে না সূর্যরশ্মি, সেই নরক থেকে আজ সে অনেক দূরে।
সালটা ১৯১৮। মধ্য হিমালয়ের গরবাল ফ্রান্স থেকে হাজারো মাইল দূরে। তবে ভবন সিংয়ের মনে হচ্ছে সে যেন মাত্র কিছুদিন আগে বাড়ি ছেড়েছিল। তিন বছরেরও বেশি সময় তাকে পড়ে থাকতে হয়েছে বিদেশের মাটিতে, দেশের খবর প্রায় পেতই না বলা চলে। এ মুহূর্তে নিজের গ্রামের দিকে চলে যাওয়া সরু, আঁকাবাঁকা রাস্তায় লম্বা লম্বা পা ফেলে এগুতে এগুতে শুধু খাবারের কথা মনে পড়ছে ভবন সিংয়ের।