অণুগল্প এক আশ্চর্য জনরা। খুবই ছোট, ছিমছাম; অথচ শক্তির দিক দিয়ে অনন্য। সাহিত্যের অন্যান্য শাখার ভেতরে কতটুকু পাঞ্চ লুকিয়ে আছে বলা মুশকিল। কিন্তু অণুগল্পে যে পুরো মাত্রায় পরিপূর্ণ সে বিষয়ের সন্দেহের অবকাশ নেই। কতটুকু দহনজ্বালা ও আগুন অণুগল্প ধারণ করে তা ভাবতেই অনুরণিত হতে হয়। বহুমাত্রিক কবি হাসান মাহমুদের অণুগল্পগুলো তার উজ্জ্বল উদাহরণ। চিন্তা-ভাবনায়, মননে দাবানল লাগাতে এর জুড়ি মেলা ভার। অণুগল্পের প্রতিটি শব্দ-বাক্য এমনকি যতি চিহ্ন পর্যন্ত একেকটি অগ্নিকণার ভূমিকা পালন করে। একটি শাণিত শরের নাম অণুগল্প, যার একমাত্র উদ্দেশ্য লক্ষ্যভেদী হওয়া। অণুগল্প ছোটগল্পের তীক্ষ্ণতা। হাসান মাহমুদ এমনই অণুগল্প লিখেছেন ‘জলের শরীর’ নামের এই বইটিতে। প্রতিটি গল্প পড়ার পর শরীর শিহরিত হয় গল্পের সুতীক্ষ্ণ আবহে।