‘রাত্রিভর ডাহুকের ডাক
এখানে ঘুমের পাড়া, সপ্তদীঘি অতল সুপ্তির!
দীর্ঘ রাত্রি একা জেগে আছি।
ছলনার পাশা খেলা আজ পড়ে থাক,
ঘুমাক বিশ্রান্ত শাখে দিনের মৌমাছি,
কান পেতে শোনো আজ ডাহুকের ডাক।’
মনুষ্য জীবনে কেউ কখনো শতভাগ সুখী না। হিংস্র যন্ত্রণা জড়িয়ে থাকে জীবনের পরতে পরতে। হাসি-কান্না, মায়া, বঞ্চনা এসব নিয়েই জীবন। কোনো কোনো সময় মানুষ নিরীহ প্রাণীর মতো অসহায়। কোনো কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপছাড়া মনে হয় আবার কোনো সময় সেই মানুষই হয়ে পড়ে পাহাড়ের মতো অটল। আবার যাপিত বাস্তবতায় হাঁপিয়ে উঠে কেউ কেউ চেয়ে নেয় জীবন থেকে মুক্তি!
নিঃসঙ্গতা কাটাতে ডাহুক যেমন একাধারে ডাকে আর কোনো পাখি এমন করে অবিরাম ডাকতে পারে না। নিস্তব্ধ রাতে প্রচ্ছন্ন বিরহী ডাহুক পাখি একাধারে ডাকতে ডাকতে তার আত্মা শুদ্ধ করে। এই ডাক স্বপ্নাচ্ছন্ন সাথীর মনে চেতনা জাগায়। ক্ষুদ্র এই পাখিও জানে কেমন করে আত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগ ঘটাতে হয়। কারণ একমাত্র আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই হয় আত্মার মুক্তি। যাপিত জীবনের সুখ, দুঃখ, বিরহ, বেদনার ছায়াকথা হলো ‘জলমগ্ন ডাহুক’ গল্পগ্রন্থটি।