আব্দুল ফাত্তাহু আবু গুদ্দাহ রহ: বলেন ,
আমিও বেশ কয়েকবার পাথেয় শুন্যতার মুখোমুখি হয়েছিলাম ।
একবার আযহার বিশ্ববিদ্যালয় কায়রোতে অধ্যয়নকালে মুখোমুখি হয়েছিলাম । একবার আযহার বিশ্ববিদ্যালয় কায়রোতে অধ্যয়নকালে বাড়ি (হালাব) থেকে টাকা আসতে বিলম্ব হচ্ছিল । একদিন সকালে আমার কাছে মাএ ১৩ করুশ (মধ্যপ্রাচ্চে প্রচলিত মুদ্রার একক: হার )
ছিল । দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার । সেদিন আমি কিছুই খাইনি । ক্ষুদার্ত অবস্থায় আমি ক্লাসে যাই । ফেরার পথে একটি খাবার হোটেলের
পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে লোকজনের ভিড় হওয়ার পুর্বেই আমি প্রবেশ করি । পুর্ব পরিচিত হওয়ার কারনে হোটেলে ওয়েটারগন দ্রুত আমার দিকে ছুটে আসে । আমি তাদেরকে সামান্য সম্মানানা প্রদান করবো এই আশায় তারা প্রত্যেকেই আমার প্রতি বিশেষ গুরুত্বআরোপ করছে ।
খেতে বসে আমি অসুস্থতা প্রকাশ করে বললাম । আমি হালকা কিছু খাবো । তারা আমাক স্যুপ আর রুটি এনে দিল । হোটেলটিতে এর চেয়ে কম দামেরকোন খাবার নেই । অত:পর আমি ক্ষুদা নিয়েই হোটেল থেকে বের হলাম । আমার কাছে অবশিষ্ট থাকল দশ পিয়ষ্টার আমি কামরায় পৌছাতে না পৌছাতেই আমার এক প্রতিবেশিকে পাচ পিয়াষ্টার ধার দিলাম , অবশিষ্ট থাকল পাচ পিয়াষ্টার । জুমার দিন সকাল বেলা শিম এই আশায় আমি কোন কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে গেলাম অবশিষ্ট পাচ কুরুশ অবশিষ্ট রয়ে গেল
ঘুম থেকে উঠৈ আমি ঘরের ছাদে পায়চারি করতে গেলাম । ৫০ মিটার দূরের ছাদে আমার জনৈক ছাত্র ভাই বাস করত । তার সাথে দেখা হয়ে গেল
দুর থেকে ইঙ্গিত দিয়ে বললো তোমার কাছে কি টাকা -পয়সা আছে ?আমিও ইঙ্গিত দিয়ে বললাম ৫ পিয়ষ্টার আছে , সে ইশারায় বলল নাস্তার জন্য টাকা দরকারআমিও তাকে ইশারা করে বললাম , আমিও নাস্তা করবো । তোমাকে আমি পিয়াষ্টার নিক্ষেপ করছি , তুমি আমাদের দুজনের জন্যই নাস্তা কিনে আমার ঘরে নিয়ে আসবে । আমি কংকর কনার সাহায্যে ৫ পিয়ষ্টার তার ছাদে নিক্ষেপ করলাম । আমার বিশ্বাস ছিল যে আমার ইঙ্গিতার্থ বুঝতে পেরেছে । এবং অতিশ্রীঘ্র সে সব্জি আনবে আমরা নাস্তা করবো
আমি ঘরে ফিরে এসে অপেক্ষা করলাম । অপেক্ষা ! অপেক্ষা ! অপেক্ষা
অপেক্ষার প্রহর আর শেষ হয় না । অবশেষে নামাযের জন্য বের হালম , এভাবে জুমার নামাযের সময় ঘনিয়ে আসল , জুমার নামাযের জন্য বের হলাম । এভাবে শনিবার দিন সকাল পর্যন্ত না খেয়েই কাটালাম । শনিবার সকালে আমি ক্লাসে উপস্থিত হলাম । তখন আমার চেহারায় ক্ষুদার ছাপ স্পষ্ট বিদ্যামান , আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু আমাকে প্রশ্ন করলো কি হয়েছে , আমি বললাম কই নাতো !
সে বলল , না অবশ্যই । কিছু একটা হয়েছে । তোমাকে বিবর্ন দেখছি । সে আমার বিষয়টি জানার জন্য পিড়াপীড়ি শুরু করল। পরে আমি তাকে আমার দুই দিন ক্ষুদার্থ থাকার ঘটনা খুলে বললাম । অত:পর সে আমাকে তার ঘরে নিয়ে মেহমানদারী করল । আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন এবং সে তার খরচের টাকা আমাকে ধার দিল । কয়েকদিনপর আমার টাকা এলো এবং আমার দুর্দশার ইতি ঘটল