আমরা যখন ঘাড় নিচু করে বিশ থেকে ত্রিশ বর্গইঞ্চির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে, আমরা যখন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসে থাকা মানুষটির থেকেও ভীষণভাবে সুদূরের, আমরা যখন আবেগের রিমোটটাকে নিপুণভাবে কন্ট্রোল করতে শিখে গেছি; তখন সালেহ রনক হাঁটছেন দৃষ্টি প্রসারিত করে। আমরা যখন ষোল আনাই ভার্চুয়াল, সালেহ রনক তখনও রক্তমাংসের মানুষ। ফলে তিনি অন্য সবার চেয়ে অনেকটাই বেশি দেখেন, অনেকটাই বেশি অনুধাবন করেন এবং সবচেয়ে বড় কথা নিজেকে দ্রষ্টা ও ভাবুক হিসেবে স্থির না রেখে তিনি লিখতে বসে যান। তাঁর গল্পগুলো পড়লেই বোঝা যায়, অবলোকনের আগ্রহের পাশাপাশি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে দেখার সক্ষমতাও তিনি অর্জন করেছেন প্রবলভাবে। ফলে তাঁর গল্পগুলো অতিবাস্তব।
সামসময়িক সাহিত্য যখন তীব্রভাবে শহরকেন্দ্রিক, তা সে পটভূমিই হোক কিংবা চিন্তা, চেতনা, জীবনযাপন অথবা শব্দ-বাক্যের ব্যবহারে; সালেহ রনকের ‘জন্মান্ধ পুতুলের সত্য’ তখন নিশ্চিতভাবেই উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। শহরের ভূগোল থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে গল্পগুলো শয়ন পেতেছে ধুলোর রাস্তায়, নদীপথে ও গ্রামে। কিন্তু সেই গ্রাম আমাদের অতি ব্যবহারে ক্লিষ্ট খেটে খাওয়া মানুষের পরমতসহিষ্ণু গ্রাম নয়। শহর ত্যাগ করতে করতে লেখক তাঁর চোখে পরিয়ে নিয়েছেন ম্যাগনিফায়িং গ্লাস। স্বভাবতই এমন সব সত্য বেরিয়ে এসেছে যা আমাদের চিরকালীন কল্পনাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে নতুন নতুন সত্যকে প্রতিস্থাপিত করে।