প্রতিঘাত-কবির কাজ নয়। পাঠকেরও নয়। বৈরী হাওয়া; তা সে বয়ে আনুক যত কঠিন ত্রাসের বাতাস ও অসহিষ্ণু মেঘদল। স্বচ্ছতা-একদিন ঠিকই খুলে দেখাবে সন্ন্যাস ও সিদ্ধির অপরিমেয় কারুজ। নিঃসঙ্কোচে দুলবে বাবুই পাখির বাসা তালগাছের উঁচু মিনারে। গাড়োয়ান ধুলো ওড়া সর্পিল পথ ধরে দ্বিধাহীন ছড়াবে ধানের আঘ্রাণ। আমাদের ভিটেয় তখন ঝাঁক বেধে চরে বেড়াবে শালিকেরা-শিষ দিয়ে উঠবে অশান্ত দোয়েল। মানুষেরা হাজার হাজার বছর ধরে হাঁটতে থাকবে ফুলের কার্পেট বিছানো সুদূর আলোকবর্ষ পথে। এলোমেলো হাওয়ায় উড়বে কবি’র অগোছালো উদ্বাস্তু চুল। নীরবে বয়ে যাবে পদ্মার ঢেউ। শিল্পই যে মহত্তম ধর্ম; এই বোধই একজন জাত কবি’কে পৃথক অন্য আর এক মানুষ ক’রে তোলে। দণ্ডিত করে মহাকাল। কোনো ধর্ম নয়-অধর্মও নয়। যাপনের পথ হেঁটে হেঁটে-দহনে-অর্থহীনতায়, ভীষণভাবে নিরর্থক হয়ে ওঠে সবকিছু। রংধরা লাবণ্যের নদীতে মানুষ তবু সাঁতার দেই। তবু সে অচেনার ভেতরেই হাঁটে। আর পতনের ঢেউয়ে দুলতে দুলতে আমরা বারবার জেগে উঠি জন্মান্তরে এবং মৃত্যুর স্বাদে ঘুমিয়ে পড়ি...