"কাবুলের গ্রন্থবণিক" বইয়ের ফ্ল্যাপের কথা:
আমি ছিলাম অতিথি কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই নিজের বাড়ির মতাে স্বাচ্ছন্দ্য বােধ করতে লাগলাম। আমার প্রতি অবিশ্বাস্যভাবে চমৎকার ব্যবহার করা হতাে; পরিবারটি ছিল উদার ও মুক্ত মনের। আমি তাদের অনেক সুসময়ের ভাগ পেয়েছি অথচ আমার স্বভাববিরুদ্ধ রাগারাগি ও ঝগড়াঝাটি- দুইই আমি করেছি খান পরিবারের সাথে। ওখানে কাউকে মার দেবার যে তাড়না আমি বােধ করেছি, অন্য কোথাও অন্য সময়ে তা আমি করিনি। তালিবানদের পতনের পরের বসন্তে ২০০২ সালে আসনে সিয়েরস্ট্যাড কাবুলের এক বই বিক্রেতা পরিবারের সাথে চার মাস বসবাস করেন। এই বই বিক্রেতাই সুলতান খান। বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুলতান খান কমিউনিস্ট ও তালিবান শাসকদের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে কাবুলবাসীকে মুক্তচিন্তার বই সরবরাহ করে এসেছেন। তাকে গ্রেফতার করে জেরা করা হয়েছে, জেলে ঢােকানাে হয়েছে। তার চোখের সামনে নিরক্ষর তালিবান যােদ্ধারা তার দোকানের বই রাস্তায় নামিয়ে পুড়িয়েছে। তাকে লুকিয়ে রাখতে হয়েছে তার সব দুর্লভ গ্রন্থ- যা সংখ্যায় দশ হাজারেরও বেশি- সব অভাবিত জায়গায়, কাবুল শহরের অসংখ্য চিলেকোঠায়। বাহ্যত একজন ব্যক্তি ও একটি পরিবারকে নিয়ে গড়ে উঠলেও এ গ্রন্থে উঠে এসেছে। আফগানিস্তানের ভূগােল, ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, ধর্ম, সাহিত্য, ঐতিহ্য ও গেরস্থালি জীবন- সবই। কাবুলের গ্রন্থাবণিক মূলত একটি আফগানিস্তাননামা।