ঈসায়ী ঊনবিংশ শতাব্দি ইতিহাসে বিশেষত্বের দাবি রাখে। কারণ, এ সময় ইসলামী দেশগুলোর মানসিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন চূড়ান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। এই অস্থিরতা ও টানাপোড়েনের বিশেষ ক্ষেত্র ছিল হিন্দুস্তান। এখানে একই সময়ে পশ্চিমা ও পূর্বীয় তাহযীব-তামাদ্দুন, আধুনিক ও প্রাকআধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও চিন্তাচেতনা এবং ইসলাম ও খ্রিস্টবাদের লড়াইয়ের ময়দান ছিল উত্তপ্ত এবং উভয় শক্তি টিকে থাকার জন্য একে অপরের সাথে ছিল যুদ্ধরত। ১৮৫৭ ঈসায়ীর আযাদীর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। হিন্দুস্তানী মুসলমানদের দিল পরাজয়ের বেদনায় ছিল ক্ষতবিক্ষত এবং তাদের দেমাগ ব্যর্থতার আঘাতে বিকল হয়ে যাচ্ছিল। দ্বৈত মাত্রার গোলামীর ভয়ে তারা ছিল সন্ত্রস্ত- রাজনৈতিক গোলামী ও সাংস্কৃতিক গোলামী। এক দিকে নতুন বিজেতা ইংরেজ সরকার নতুন তাহযীব ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের কাজ আরম্ভ করে দিয়েছিল।