বাংলা ভাষায় ইকবাল-কাব্যের অনুবাদের প্রয়োজন আছে। আমাদের তমদ্দুনিক সংগঠনের পক্ষে তাঁহার চিন্তা, ধ্যান-ধারণা, আদর্শ ও পয়গামের খুবই প্রয়োজন। কাব্যে যত রূপ, রস ও আনন্দই থাকুক, তাহার পশ্চাদভূমিতে কোনো দর্শন না থাকলে সেই কাব্য মানুষের অন্তরে কোনো স্থায়ী রেখাপাত করে না। প্রত্যেক জাতির কাব্য তার ঐতিহ্য ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে রূপ দেয়। সেই হিসাবে ইকবাল সত্যিই বিশ্ব কবি। তাঁর চিন্তা ও ধ্যানের আর্শিতে জাতির মানসলোক প্রতিবিম্বিত হয়েছে। কাজেই আত্মদর্শন করতে হলে তাঁর কাব্যের সঙ্গে আমাদের সম্যক পরিচয় থাকা নিতান্ত প্রয়োজন।
আমাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা, ইকবাল যতটা দার্শনিক, ততটা কবি নহেন। এই ধারণা ভুল। কাব্য-সৃষ্টিতেও ইকবাল অতুলনীয়। এই পুস্তকের অনুবাদগুলির মধ্যেই পাঠক তাহার পরিচয় পাইবেন। তাছাড়া কাব্য ও দর্শনের ওইরূপ বিভাগও সঙ্গত নহে। ইকবাল-কাব্যে ধর্ম, দর্শন ও কবিত্ব একসঙ্গে মিলে অপরূপ মাধুর্য লাভ করেছে, এটা লক্ষণীয়।ইকবালের আদর্শে আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ-মন প্রস্তুত হোক, তাঁর স্বপ্ন আমাদের চোখে নামুক, এই মুনাজাত করি।