কালিমা সম্পর্কে বর্তমানে অধিকাংশ লোকের অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। অধিকাংশ মানুষ এ ‘কালিমাতুশ শাহাদাহ’ বা সাক্ষ্যদানের বাক্য সম্পর্কে অজ্ঞ। একমাত্র আল্লাহ যার প্রতি করুণা করেছেন, আর শিরক থেকে রক্ষা করেছেন, সে ব্যক্তি ছাড়া বাকি সবাই তাদের অজান্তেই শিরক নামক মহামারিতে আক্রান্ত হচ্ছে। অধিকাংশ লোকের অবস্থা হচ্ছে তারা জানে না এ কালিমার অর্থ কী, কী এর গুরুত্ব ও মর্যাদা। জানে না কালিমার দাবিই বা কী। এ কালিমার সাক্ষ্য দানের মাধ্যমে কী তারা স্বীকার করে নিচ্ছে, আর কী অস্বীকার করছে। দাবি করছে আমরা মুসলিম, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য করো ইবাদাত করি না। অথচ বাস্তবিকভাবে তারা আল্লাহর পাশাপাশি আরো বহু রবের/ইলাহের ইবাদাত করছে। এভাবে তারা শিরকের স্রোতে ঈমানকে বিলিয়ে দিচ্ছে।
আল্লাহ বলেন وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللهِ إِلَّا وَهُمْ مُّشْرِكُوْنَ
অধিকাংশ মানুষ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে । [সূরা ইউসুফ ১২: ১০৬]অধিকাংশ মুসলিমই এ ভুল ধারণা পোষণ করে যে, কালিমা মুখে উচ্চারণ করলে অথবা মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করলে বা লালিত পালিত হলে কিংবা সুন্দর একটা আরবি নামধারণ করলেই মুসলিম হওয়া যায়। তার কাজ-র্কম জীবনযাপন পদ্ধতি যাই হোক না কেন। অথচ সাহাবীদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তাদের এবং আমাদের কালিমা বুঝার ক্ষেত্রে বিরাট ব্যবধান রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইসলামের পতাকাতলে নিজেকে দাখিলের জন্য প্রত্যেকেরই কালিমাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে তাওহীদ ও রিসালাতের এ কালিমাকে সহজভাবে বুঝতে পারে তাই এই ছোট বইটির সংকলনের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র।