প্রেম এবং দ্রোহকে সৌন্দর্যের আধারে সমন্বিত করে যে-কজন কবি বাংলাদেশের কবিতায় এক স্বতন্ত্র মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন, মোহন রায়হান তাদের অন্যতম। তিনি যেমন একদিকে সমাজবদলের স্বপ্নে উজ্জীবিত, তেমনি তাকে অন্তর্লীন আবেগের সারাৎসারে স্নিগ্ধ করে তোলা এক সাহসী সৈনিক। কবি হিসেবে মোহন রায়হান বিবিক্ত বা নিরাসক্ত নন। তিনি হৃদয়কে অনুভব করেন বিপ্লবীর দৃষ্টিতে, আর বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেন প্রেমিকের অপরাজের অনুভবের মৌলিকতার মধ্যে। তার বিপ্লবী কবিতা যেমন পাঠককে সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখায়, তেমনি তার প্রেমের কবিতা স্বপ্নের মৌলিক প্রবাহের মধ্যে জীবনকে স্থাপন করে। তাই বিশ্বের নানামুখি ভাঙনের মধ্যেও মানুষে-মানুষে সন্ধিস্থাপন, বিশ্বের প্রতি মানুষের কল্যাণের চিন্তায় আপ্লুত এবং শোষণহীন সাম্যবাদী সমাজের স্বপ্নে বিভোর মোহন রায়হান আজও এক অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে তার অভিযাত্রাকে বহমান রেখেছেন। নিজের বিশ্বাসে মোহন আজও অটল এবং প্রতিজ্ঞায় সর্বগ্রাসী। এই প্রতিজ্ঞা, স্বপ্ন ও আবেগের সঙ্গী তার ভালবাসার মানুষেরা, তার স্বপ্নের নায়িকারা, যাদের ছাড়া তার বিপ্লবী চিন্তা অসম্পূর্ণ।