সারা ক্লাসটায় আশিকের আর মন বসল না। সে এখন নিশ্চিত, এটা অনিরুদ্ধ নয়। একই মানুষের অন্য সত্তার সাথে তার শারীরিক আকার ভিন্ন হবার কথা নয়। তার মানে আশিক অরুনিমাকে যা বুঝিয়েছে, সেটা ভুল। আর অরুনিমা সেটাই হয়ত হাসতে হাসতে অনিদাকে বলেছে। ওরা যা জানে তা মিথ্যে। কিন্তু অরুনিমার সাথে তাহলে থাকে কে? এই শারীরিক পার্থক্য কি অরুনিমা বুঝতে পারেনি? সেটা কীভাবে হয়?
কিছুটা অন্যমনস্কই হয়ত হয়ে গিয়েছিল আশিক। সেই মানুষটা যে কখন লাস্ট বেঞ্চ থেকে বের হয়ে চলে গেছে, খেয়ালই করেনি। ক্লাস শেষে দ্রুত বের হয়ে আশেপাশে তাকাল, খুঁজে দেখল। একদম হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে যেন মানুষটা! না, মিলিয়ে যায়নি। আশিকের মোবাইলটা বেজে উঠল।
অনিরুদ্ধদা! ফোনটা রিসিভ করল আশিক। একটা ফ্যাসফ্যাসে কণ্ঠস্বর, ‘এই জনমেও আমায় সেই জনমের মরণ দিও!’
‘হ্যালো। কে?’
‘আমি।’
‘দাদা, কী হয়েছে?’
‘ভালো সম্বোধন! বেশ আপন লাগে। তা দাদা কি জানেন তোমার উদ্দেশ্য কী? নাকি বিধেয় দেখিয়েই খেলে দিচ্ছ?’
‘দাদা! আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’
‘বোকার হদ্দ, নাম্বার দেখ।’
নাম্বারটা দেখল আশিক। সংখ্যাগুলো এমন কেন? খটকা লাগছে, নাম তো অনি দাদারই দেখল তখন।
‘আপনি কে?’
‘এইবার আসল জায়গায় এসেছ। আমি যে দাদা নই তা তো বুঝে গেছ, কিন্তু আমি যে আবার দাদাই তা কি বুঝেছ?’
‘হেয়ালি রাখুন।’
‘হেয়ালি করি না আমি আশিক। অরুর কাছ থেকে দূরে
থাকবে।’
‘মানে?’
‘অরু আমার স্ত্রী। তুমি দূরে থাকবে তার কাছ থেকে।’
‘আপনার স্ত্রী হতে যাবে কেন অরুনিমা? দাদা আছেন।’
‘অরু আমারই। তুমি দূরে থাকবে, নাহলে...’
‘নাহলে কী?
লাইনটা কেটে গেল। একটা এমএমএস এল তার মোবাইলে... একটা লাশ! না না, এটা তো....
গলার কাছটা ধারালো ছুরি দিয়ে দু’ভাগ করা। ডান চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফ্যালফ্যাল করে নিজের মৃতদেহের ছবির দিকে তাকিয়ে রইল আশিক।