“খাসসিয়্যাতুল আবওয়াব ক্বাওয়াইদুল ইমলা” মূলত ভিন্ন দুটি বিষয়ে দুটি আলাদা বই একমলাটে জমা করা হয়েছে। নিম্নে দুটি বই সম্পর্কে...
*** কাওয়াইদুল ইমলা সম্পর্কে:
আমরা অনেকেই আরবী লিখতে গেলে কোথায় ا (আলিফ) এর ওপর ء (হামযা) হবে আবার কোথায় হবে না তা জানি না। কোথায় ي লিখতে নুকতা হবে আবার কোথায় হবে না তা জানি না। আরবী রচনা লিখতে প্রয়োজনীয় বিরাম চিহ্নের ব্যবহার সম্পর্কে জানি না। জানি না গোল তা কখন কীভাবে লিখতে হয়। ইমলা তথা আরবী লিপি শৈলির নিয়ম কানুনের জন্য ‘কাওয়াইদুল ইমলা’ একটি সুন্দর কিতাব।
*** খাসসিয়্যাতুল আবওয়াব সম্পর্কে:
আরবী ভাষার শিক্ষার্থীদের নিকট باب “বাব” একটি সুপরিচিত শব্দ। باب এর শাব্দিক অর্থ ‘দরজা’ তবে আরবী শব্দ তত্ত্বে বা সরফ শাস্ত্রে এটিকে فِعْلْ বা ক্রিয়া রূপান্তরের (গরদানের/সিলসিলার) মূল ভিত্তি/অধ্যায় হিসেবে বুঝানো হয়। সহজে অল্প কথায় باب হলো; ইলমুস সরফ বা রূপমূলতত্ত্বে 'باب' (বাব) বলতে মাযী (অতীতকাল) ও মুযারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল)-এর কালমার (فعل-এর দ্বিতীয় মূলবর্ণ/ʿع কালিমাহর) হরকতের নির্দিষ্ট একটি বিন্যাস পদ্ধতিকে বোঝায়।
অন্যভাবে যদি বলি: একটি সিগাহ্ বা শব্দ মাযী ও মুযারে অবস্থায় কোন্ ওযন (প্যাটার্ন) এবং কোন্ হরকত অনুসরণ করে উচ্চারিত হবে, তা নির্ধারণ করার নির্দিষ্ট ধারা বা প্যাটার্নকে বাব বলা হয়।
আরবি ক্রিয়াপদের সঠিক উচ্চারণ, অর্থ এবং গঠন বুঝতে 'বাব' জানা অপরিহার্য, কারণ এটি শব্দের আসল মূল কাঠামোকে নির্দিষ্ট রূপ দেয় এবং একটি শব্দই ভিন্ন দুটি বাবে দুটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। যেমন عاصم অর্থ রক্ষা কারী আর معتصم মানে আকড়ে ধারণকারী।
# বাবের ভিন্নতায় এই যে অর্থ পাল্টে যায়, একেক বাবের একে অর্থ হয় সেই বিষয়গুলোর একটি অনবদ্য সংকলন ‘খাসসিয়্যাতুল আবওয়াব’।
***
প্রচলিত আরবি ভাষার শিক্ষা ব্যবস্থায় এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাদা পাঠ্যপুস্তক খুব একটা নজরে পরে না। একজন দক্ষ আরবি ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরী। গুরুত্ব বিবেচনায় দুটি বই এক মলাটে প্রকাশ করেছি। এতে এক সাথে দুটি বই সূলভ মূলে শিক্ষার্থীরা পেয়ে যাচ্ছে।