‘কিছু এর রেখে যাই’ বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়প্রবাসী অর্থনীতিবিদ ড. আলী আহমাদ রুশদীর স্মৃতিকথা। আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথার মধ্যে ফারাক রহিয়াছে। আত্মজীবনী ও জীবনীর মধ্যে পার্থক্য নাই-কেবল লেখক ভিন্ন।স্মৃতি কথা অন্য জিনিস। ইহা ব্যক্তির স্মৃতি রোমন্থনের ফসল। সিলেক্টিভ। স্মৃতির ভাণ্ডারে কত কিছু না সঞ্চিত থাকে। লিখিতে বসিলে সবকিছু স্মরণে আসে না। কিছু কথা বাদ পড়িয়া যায়। অন্যদিকে কিছু কথা অপ্রতিরোধ্যভাবে বিস্মৃতির অতল হইতে উদ্ভাসিত হইয়া ওঠে।
লেখক তাহার স্মৃতিগ্রন্থের নাম দিয়াছেন ‘কিছু এর রেখে যাই’ ইহা বাস্তবোচিত হইয়াছে। জঁ জাক রুশো তাহার ‘কনফেশনস’-এ কেবল নিজের কথাই লিপিবদ্ধ করেন নাই-সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতির নানা ঘটনাবলির অনুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়ছেন। তদ্রুপ ‘কিছু এর রেখে যােই’ নামীয় স্মৃতিকথা কেবল একজন ব্যক্তির স্মৃতি রোমন্থন নহে, ইহাতে পারিপাশ্বিক সময়ের বস্তনিষ্ঠ ভাষ্যও রহিয়াছে। ড. রুশদী দার্শনিক নহেন কিন্তু বইয়ের নানাস্থানে দার্শনিকোক্তি রহিয়াছে যাহা তাহার গভীর মননশীলতার পরিচয় বহন করিতেছে।