আগের দিন ফুটবলে জিতেছিল, তাই রিঙ্কুদের স্কুল সেদিন ছুটি হয়ে গেছে আগেভাগে। খাঁ খাঁ ঝাঁ ঝাঁ করছে দুপুর, তারই মধ্যে রিঙ্কু বাড়িতে ফিরেছে। ঘামতে ঘামতে। তারপর যতই দরজা ধাক্কায়, কিছুতেই দরজা আর খোলে না। ধাক্কাচ্ছে, চেঁচাচ্ছে, কিন্তু দরজাটা খুলছে না।
বাড়িতে কেউ ছিলেন না, শুধু ওর আম্মা ছিলেন। তিনি কি একটা বই পড়ছিলেন শুয়ে শুয়ে, কখন ঘুমিয়ে পড়েছেন এক্কেবারে খেয়াল নেই। রিঙ্কু তো বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে, পেটাচ্ছে, আর 'আম্মা' 'আম্মা' বলে চিৎকার করছে। আম্মা কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না।
অনেকক্ষণ পরে, রিঙ্কু যখন প্রায় পাগলের মতো হয়ে উঠেছে, সেই সময়ে আম্মার ঘুম ভাঙলো। ব্যস্তসমস্ত হয়ে তিনি উঠে দরজা খুললেন। রিঙ্কুর তখন সে কী রাগ! তা রাগ তো পরে হলো, দরজা খোলার পর। দরজা যখন খুলছে না, রিঙ্কু তখন ভীষণ ভয়ে পেয়ে গিয়েছিল। কেঁদেই ফেলেছিল আতঙ্কে। আম্মার বোধ হয় কিছু হয়েছে। আর বুঝি খুলবে না এই ভীষণ কঠিন দরজা!