ক্ষমতাসীনদের প্রতি দাওয়াহ
আপনার আজকের এ ক্ষমতার স্বাদ আল্লাহর পরীক্ষা। ঠিক যেমন সম্পদ আল্লাহর পরীক্ষা। যার সম্পদ আছে, তার ওপর কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব, অতিরিক্ত পরীক্ষা। তাকে জাকাত দিতে হয়, তাকে হজ করতে হবে, পাশের প্রতিবেশীর জন্য সে জিজ্ঞাসিত হবে, আয়ের পন্থার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে তাকে। যার টাকাপয়সা নেই, তার এসব পরীক্ষাও নেই।
আল্লাহ কাউকে দিয়ে পরীক্ষা করেন, কাউকে না দিয়ে পরীক্ষা করেন। আমরা সবাই পরীক্ষার ভেতরে আছি। আপনাকে ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করছেন। এ পরীক্ষায় আমি কোন দলের মতো আচরণ করছি! দুই দলে মানুষ বিভক্ত হয় নিয়ামত পাওয়ার পর—কৃতজ্ঞ আর অকৃতজ্ঞ। দুই দলের পরিণতিও সে অনুপাতেই হয়। পরীক্ষার পর A+ একদল পায়, কেউ B পায়, কেউ F পায় (ফেল)।…
দ্বীনের দাবি
ইবাদতের প্রকৃত এই অর্থ মাথায় রেখে একটু চিন্তা করুন যে, আমাদের মাঝে ইবাদতের রং কী পরিমাণ পরিবর্তিত হয়েছে! আমাদের মাঝে দ্বীনি চিন্তাধারা যেভাবে সীমাবদ্ধ এবং কিছু শিক্ষা-আসরে যে পরিমাণ বিকৃত হয়েছে, তার সবচেয়ে উজ্জ্বল উপমা হলো ইবাদত। এটাকে সামান্য কিছু আমল ও মৌসুমি ইবাদতের সাথে নির্দিষ্ট করে নেওয়া হয়েছে। এগুলো আদায় করার মাঝেই ইবাদতকে সীমাবদ্ধ মনে করা হচ্ছে। অথচ বাকি জিন্দেগিকে ইবাদত থেকে মুক্ত করে রাখা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে অধঃপতনের ফলে আমাদের সাধারণ মানুষের ব্রেইনে এই চিন্তাধারা দৃঢ় হয়ে গেছে যে, নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজই শুধু ইবাদতের কাতারে শামিল। নিঃসন্দেহে এ সবই ইবাদত; কিন্তু যখন ইবাদতকে শুধু এগুলোতেই সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হবে এবং এমনটা ভাবা হবে যে, এগুলো আদায় করার মাধ্যমে ইবাদতের হক আদায় হয়ে যাবে, তাহলে দ্বীনের ব্যাপারে চিন্তাধারা শুধু সীমাবদ্ধই হবে না; বরং বিকৃতও হয়ে যাবে। এই চিন্তাধারা ওই পর্যন্ত বিশুদ্ধ ও সঠিক হবে না, যে পর্যন্ত না এই উপলব্ধি তৈরি হবে যে, পুরো জিন্দেগি আল্লাহ তাআলার সামনে অবনত থাকার নামই হলো ইবাদত। ইবাদত হলো ওই কর্মপদ্ধতির নাম, যা পূর্ণ ভালোবাসা, আগ্রহ ও আন্তরিকতার সাথে জীবনের প্রতিটি লেনদেন ও প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার হুকুমের অনুগত বানিয়ে দেয় এবং নিজের স্বাধীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা, সন্তুষ্টি, কামনা ও নিজের পছন্দ-অপছন্দকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির অনুগত বানিয়ে দেওয়া। জিন্দেগির সমস্ত কর্ম ও আমলে মাথা পেতে নেওয়ার দর্শন গ্রহণ করা এবং পুরো জিন্দেগিতে এদিকে ঝুঁকে পড়ার নামই হলো ইবাদত। ইবাদত নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইবাদত হলো সে আমল, যা পুরো জিন্দেগি আল্লাহ তাআলার বন্দেগি ও তাঁর গোলামির জন্য মানুষকে তৈরি করে তোলে এবং বাস্তবিক ইবাদত আদায়ে তার জন্য সাহায্য-সহযোগিতাকারী হয়ে যায়। এর মাধ্যমে মানুষের মাঝে এমন যোগ্যতা ও শক্তি তৈরি হয় যে, সে সারা জীবন এই আলো গ্রহণ করতে পারে, যার নাম ‘ইবাদত’।
ভুল সংশোধনে নববী পদ্ধতি
ভুল মানুষের প্রকৃতিগত বিষয়—মানুষ থেকে ভুল প্রকাশ পাবে। তবে আবশ্যক হলো, ভুলের পর তারা সংশোধন হবে, তাওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসবে। তাই ভুল শুধরে নেওয়ার বিষয়টি অতীব জরুরি। আর এ জন্য জানা জরুরি ভুল সংশোধনের সঠিক পদ্ধতি। কেননা, ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্মপদ্ধতি গ্রহণ না করার কারণে অনেক সময় সংশোধনকারী নিজেই ভুল করে বসেন। কখনো ছোট একটি ভুলকে খুব বড় করে তুলে ভুলকারীর ওপর অতি মাত্রায় কঠোরতা করেন। আবার কখনো খুব বড় ভুলকেও হালকাভাবে দেখেন, ফলে ভুলকারী ভুলের ওপরই অটল-অবিচল থাকে। অনেকেই আবার ভুল সংশোধনে তাড়াহুড়া করেন; সংশোধনের পূর্বে যে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখা প্রয়োজন, তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না। প্রকৃতপক্ষে ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্মপদ্ধতিই সবচেয়ে সঠিক ও যথাযথ পদ্ধতি। ভুল সংশোধনে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্মপদ্ধতি কেমন ছিল, এ শিক্ষণীয় বিষয়গুলোই শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ (الأساليب النبوية في معالجة الأخطاء)-তে চমৎকারভাবে একত্র করেছেন। এরই বাংলারূপ ‘ভুল সংশোধনে নববি পদ্ধতি’।
আমরাই গড়ব আগামীর পৃথিবী
ভুল মানুষের প্রকৃতিগত বিষয়—মানুষ থেকে ভুল প্রকাশ পাবে। তবে আবশ্যক হলো, ভুলের পর তারা সংশোধন হবে, তাওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসবে। তাই ভুল শুধরে নেওয়ার বিষয়টি অতীব জরুরি। আর এ জন্য জানা জরুরি ভুল সংশোধনের সঠিক পদ্ধতি। কেননা, ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্মপদ্ধতি গ্রহণ না করার কারণে অনেক সময় সংশোধনকারী নিজেই ভুল করে বসেন। কখনো ছোট একটি ভুলকে খুব বড় করে তুলে ভুলকারীর ওপর অতি মাত্রায় কঠোরতা করেন। আবার কখনো খুব বড় ভুলকেও হালকাভাবে দেখেন, ফলে ভুলকারী ভুলের ওপরই অটল-অবিচল থাকে। অনেকেই আবার ভুল সংশোধনে তাড়াহুড়া করেন; সংশোধনের পূর্বে যে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখা প্রয়োজন, তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না। প্রকৃতপক্ষে ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্মপদ্ধতিই সবচেয়ে সঠিক ও যথাযথ পদ্ধতি। ভুল সংশোধনে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্মপদ্ধতি কেমন ছিল, এ শিক্ষণীয় বিষয়গুলোই শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ (الأساليب النبوية في معالجة الأخطاء)-তে চমৎকারভাবে একত্র করেছেন। এরই বাংলারূপ ‘ভুল সংশোধনে নববি পদ্ধতি’।
শেষ বিদায়ের আগে রেখে যাও কিছু উত্তম নিদর্শন
মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করে দুনিয়া থেকে সবার নিশ্চিত বিদায় নিতে হবে। এ বিদায়কে কেউ অস্বীকার করে না। এ বিদায়কালে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, ধন-সম্পদ কিছুই সঙ্গে রবে না। নিজের জন্য নিজের আর কিছুই করার থাকবে না। কত মানুষই এমন অবস্থায় ওপারে পাড়ি জমিয়েছে, তাদের চলে যাওয়ার পর দুনিয়াতে তাদের জন্য কোনো নিদর্শনই বাকি থাকেনি। ছেড়ে যাওয়া পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ তাদের কোনো কাজে আসেনি। কেননা, পার্থিব ভোগ-বিলাসে বিভোর থাকাই ছিল তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। তাই তো দুনিয়ার জন্যই কেটেছে তাদের দুনিয়ার জীবন! পক্ষান্তরে যারা পরকালের পাথেয় সংগ্রহে দুনিয়ার ধন-সম্পদকে কাজে লাগিয়েছে, শেষ বিদায়ের আগে উপকারী অবদান রেখে গেছে, রেখে গেছে আমলের পাল্লাকে ভারী করার মতো নেক প্রয়াস আর উত্তম নিদর্শন—তারাই সফল, সার্থক তাদের দুনিয়ার জীবন!