কক্স। ক্যাপ্টেন হাইরাম কক্স। যার নামে আজকের কক্সবাজার। কাজটি তার মনঃপূত হয়নি। কোম্পানি এক রকম জোর করে চাপিয়ে দিল। বার্মা মিশনের ব্যর্থতা তাকে প্রতিবাদী হতে দিল না। সে ব্যর্থতায় নিজস্ব গ্লানিবোধ ছিল। মর্মপীড়া ছিল। উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের আদেশটি যখন হাতে এলো,তখন আরো ভেংগে পড়লেন এই ভেবে যে নিজস্ব গ্লানিবোধ কিংবা মর্মপীড়াটাই শাস্তির জন্য যথেষ্ট থাকলো না। পদ মর্যাদার সংগে নতুন দায়িত্ব সংগতিপূর্ণ ছিল না। বার্মার রেসিডেন্ট। রাষ্ট্রদূতের সমান প্রায়। সেখান থেকে অখ্যাত গণ্ডগ্রাম। বনবাসের মতোই। প্রথম ধাক্কাটা হজম করতে সময় লাগলো কিছুটা। পানীয়ের মধ্যে আকণ্ঠ ডুবে থাকতে চাইলো মন। কিন্তু মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে তাকে মোকাবেলা করলেন। গ্লাসভর্তি পানীয় সামনে নিয়ে ভাবছিলেন। দূর থেকে বিমর্ষ ভাবটি লক্ষ্য করলেন ন্যান্সী। মৃদু মৃদু পায়ে এগিয়ে এলেন। কক্স চোখ তুলে তাকালেন। ন্যান্সী স্বভাব সুলভ ভদ্রতায় বললেন,বসতে পারি? কক্স মাথা নেড়ে বললেন,নিশ্চয়ই। ন্যান্সী একটি চেয়ার টেনে সামনাসামনি বসলেন। কক্স আরেকটি গ্লাসে কিছুটা পানীয় ঢেলে ন্যান্সীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,নাও। ন্যান্সী স্মিত হাসলেন। গ্লাসে গ্লাস ঠেকালেন দু’জন। অতপর চুমুক দিলেন। ন্যান্সী গ্লাসটি রেখে বললেন,আমিও যাচ্ছি।