সভ্যতা মানুষের ইতিহাসের মতোই প্রাচীণ। সভ্যতার লক্ষণ বা মানদণ্ড হলো কিছু নৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানগত বিষয়ের উপস্থিতি। আদিম মানব সমাজ নিয়ে মূলধারার সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে বৈপরীত্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ করা যায়। একদিকে তারা মনে করেন আদিম মানব সমাজ ছিল অসভ্য। ক্রমে তারা সভ্য হয়েছে। অন্যদিকে একটা অংশ মনে করেন আদিম সমাজ ছিল সাম্যবাদী। তাদের বর্ণনা মোতাবেক, প্রযুক্তিগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কিছু মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য সঞ্চয় বা দখলে নিয়ে পুঁজিবাদ তথ্য অসাম্যের উৎপত্তি ঘটিয়েছিল। ইতিহাসের শুরু থেকে মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে পৃথিবীর কোনো একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। যেমন গ্রিক, রোমান, পারস্য, ভারতীয়, চীন, মায়া, ইনকা, ব্যাবিলনিয়ান ইত্যাদি। ঊনবিংশ শতাব্দীর নৃতত্তবিদদের মতে, প্রথমে সংস্কৃতি এবং পরবর্তীকালে সভ্যতার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কৃতি একটি সভ্যতার মধ্যে বিদ্যমান। বহু সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে। সংস্কৃতি ছাড়া সভ্যতা সম্ভব নয়।
একটি ক্ষুদ্র পুস্তকের মাধ্যমে মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ লিবিবদ্ধ করা একটি অসম্ভব কাজ। আমি সেই দুঃসাহস করিনি। সামান্য কিছু উপাদানকে তুলে ধরা সম্ভব মনে করে আমার এই প্রয়াস।
আগ্রহী পাঠকের সামান্য চাহিদা পুরণ হলেই আমার চেষ্টা স্বার্থক হবে