মানুষ ভ্রমণ পিয়াসী। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের এই ভ্রমণ উন্মুখ মনের প্রকাশ পাওয়া যায়। আর এই ভ্রমণ মনের সৌন্দর্যবোধকে যখন মানুষ লেখার মাধ্যমে শিল্পে রূপ দিতে চাইল, তখন থেকেই এই শব্দটির সাথে ধীরে ধীরে সাহিত্য কথাটি যুক্ত হলো। আমরা পেলাম সাহিত্যের এক অনন্য শাখা "ভ্রমণ
সাহিত্য"। বাংলা সাহিত্যে এই ছোট শাখাটিকে সমৃদ্ধ করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর 'জাপান-যাত্রী', 'রাশিয়ার চিঠি', এমনকি ছিন্নপত্রের মধ্যেও ভ্রমণ সাহিত্যের অন্যরকম মুগ্ধতা কাজ করে। পরবর্তীকালে সৈয়দ মুজতবা আলীর
' দেশে-বিদেশে' গ্রন্থটিও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। যেহেতু মানুষ সৌন্দর্যের পূজারী, সৌন্দর্যেই অবগাহন করতে চায়। মূলত এটিই ভ্রমণের মুখ্য উদ্দেশ্য হলেও, পাশাপাশি সমাজ দর্পণ হিসেবে এই সাহিত্যের মধ্য দিয়ে উঠে আসে এক একটি ভিন্ন অঞ্চল, দেশ, প্রকৃতি, জীবন ও সংস্কৃতি, রাজনীতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ইত্যাদি প্রভূত বিষয়। যা 'মায়াময় দিনের কথা' গ্রন্থে কিছুটা হলেও খুঁজে পাবে। ছয়টি দেশের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ব্যতিক্রমী আস্বাদন পেতে এই গ্রন্থটি সোপান হিসেবে কাজ করবে এবং ভ্রমণ অনুসন্ধিৎসু পাঠকমনের ভ্রমণ তৃষ্ণাকে বাড়িয়ে দিবে।