মেঘ সরে গেল। জোছনা নামল। নির্জন সড়কের পাশে ছোট্ট চায়ের দোকান। নড়বড়ে ভাঙা কাঠের বেঞ্চিতে কয়েকজন মানুষ, সবার হাতে চায়ের কাপ, এদের ভেতর দুজনের হাতে সিগারেট—বাতাসে ধোঁয়া কুণ্ডলি পাক খেতে খেতে জোছনায় মিশে যাচ্ছে।
একটু দূরে বয়স্ক মেহগনি গাছের গোড়ায় দুটি পা মেলে সেই বিকেল থেকে লোকটি বসে আছে। লোকটির বয়স কত—তা আন্দাজ করা কঠিন। সমস্ত শরীর ধুলো-বালিতে মাখামাখি। মাথাভর্তি ঘন কালো দীর্ঘ চুল, দাড়ি-গোঁফে মুখটা ভালো চেনার উপায় নেই।
চোখের দৃষ্টি ধারালো এবং জ্বলজ্বলে। পরনে একটি পুরনো লুঙ্গির টুকরো জড়ানো, গায়ে চটের লম্বা একটা অংশে বুক-পিঠ মাত্র ঢাকা। কোথায় তাঁর বাড়ি, কোথা থেকে এসেছে—কেউ জানে না!