ইমাম ইবনুল জাওযি (রাহি.) (মৃত্যু: ৫৯৭ হি.) বলেন,‘ইলম’ হচ্ছে সকল নীতির মূল ও ভিত্তি আর সবচেয়ে উপকারী জ্ঞান হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবিগণের জীবনীতে দৃষ্টি প্রদান করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,“এরাই তারা,যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত করেছেন,কাজেই আপনি তাদের পথের অনুসরণ করুন।” [সূরা আল-আনআম ৬:৯০] ㅤ আমাদের এই গ্রন্থটি মূলত ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু শারাফ আন-নাওয়াওয়ি (প্রসিদ্ধ: ইমাম নববি) (রাহি.)-এর (মৃত্যু: ৬৭৪ হি.) রচিত-‘তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত অধ্যায় ‘তাহযীবুস সীরাতিন নাবাওয়িয়াহ’ অংশটি। ㅤ ‘তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত’-এটি মূলত ‘রিজাল’ বা হাদীসের বর্ণনাকারীদের পরিচিতি বর্ণনামূলক কিতাব। গ্রন্থকার এই কিতাবের শুরুতেই প্রিয়নবি ﷺ-এর সারগর্ভ জীবনালোচনা করেছেন। হাদীসে বর্ণিত গভীর ও ব্যাপক অর্থবোধক শব্দে নবিজীবন তুলে ধরেছেন। যা অন্যান্য সীরাত গ্রন্থ থেকে এই সীরাত-কে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। ㅤ বইটির বৈশিষ্ট্য: ㅤ ১। বইটি প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে রচিত, ২। রচয়িতা ইমাম নাওয়াওয়ি (রাহি.) একজন প্রখ্যাত ইমাম,ফকীহ,মুহাদ্দিস ও রিজালশাস্ত্রবিদ্, ৩। হাদীসে বর্ণিত গভীর ও ব্যাপক অর্থবোধক শব্দে নবিজীবন তুলে ধরেছেন। ৪। সীরাতের ব্যাপারে ইমাম নাওয়াওয়ি (রাহি.)-এর গবেষণালব্ধ মতসমূহের ‘আকর গ্রন্থ’ এটি, ৫। বইটির কলেবর ছোটো কিন্তু ব্যাপক তথ্য সমৃদ্ধ, ৬। বইটিতে নবিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সকল দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে যা একজন মুমিনের জন্য জানা অপরিহার্য, ৭। প্রতিটি তথ্যের মৌলিক রেফারেন্স ও মান উল্লেখ করা হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিটি তথ্যের সবচেয়ে প্রাচীন উৎসগ্রন্থ থেকে রেফারেন্স দেওয়ার।