মহীয়সী মরিয়ম
হজরত মরিয়ম আলাইহিস সালাম ছিলেন আল্লাহর এমন বিশিষ্ট একজন ওলি, যার জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন কারামতের দ্বারা আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন।
পৃথিবীতে আগমনের পরপরই অভিশপ্ত ইবলিসের শয়তানি স্পর্শ থেকে নিরাপত্তা দেওয়া, কন্যা শিশু হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর মহাপবিত্র ঘরের খেদমতের জন্য গৃহীত হওয়া, আল্লাহর কুদরতেই মরিয়মের দায়িত্বশীল হিসেবে হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের মতো এত মহান একজন নবীর মনোনয়ন এবং পরবর্তী সময়ে তার তত্ত্বাবধানেই লালনপালন, ফেরেশতার মুখে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ পাওয়া, আসমান থেকে তার জন্য কুদরতিভাবে রিজিকের ব্যবস্থা, ফেরেশতার সঙ্গে কথোপকথন, স্বামীর সংস্পর্শ ছাড়াই সন্তান জন্মদান, তার উপর হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের মতো আল্লাহর এমন বিশিষ্ট ও মহামর্যাদার অধিকারী একজন নবীর মাতৃত্বলাভ মোটকথা, নানা বিস্ময়কর আর ঈর্ষণীয় কারামত ও বৈশিষ্ট্য ছিল বিবি মরিয়মের গোটা জীবনকে ঘিরে।
এই মহিমান্বিত নারীর জীবনালেখ্য নিয়েই রচিত হয়েছে এই গ্রন্থ-মহীয়সী মরিয়ম।
হযরত আয়েশা রাযি.-এঁর প্রাথমিক অবস্থা, শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক ও দাম্পত্য জীবন, সৎ ছেলেমেয়ে ও সতিনদের প্রতি সদাচার, ইফকের ঘটনা, সংস্কারমূলক কার্যক্রম, কুরআনে ব্যূৎপত্তি, মাসাইল-দক্ষতা, ইজতিহাদ-ক্ষমতা, হাদীসে নববীর অগাধ জ্ঞান, ফিকহ ও কিয়াসে অসাধারণ প্রতিভা, চিকিৎসা-শাস্ত্রে পারদর্শিতা, বক্তৃতা ও কাব্যে মুনশিয়ানা, ফতওয়া প্রদানে পারঙ্গমতা, জগতের নারী সমাজের প্রতি তাঁর অবদান ইত্যাদি। এ-ছাড়াও আরও অনেক কিছু উঠে এসেছে অনিন্দ্যসুন্দর বিন্যাসে, গবেষণামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী কায়দায়; যার গুরুত্ব সে-যুগে এ-যুগে সমানভাবে অপরিসীম।
গল্পে আঁকা মহীয়সী আমেনা
আমেনা বিনতে ওয়াহব। নবি-জননী। আমাদের মা আমেনা। যার কথা পড়তে যেয়ে, লিখতে বসে, বলতে গিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস-গ্রন্থ খুঁজে পাওয়া যায় না! যেকারণে অনুসন্ধানী ও আগ্রহী পাঠকেরা চাইলেও মা আমেনা সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারেন না পরিচিত মুখরোচক গল্পের বাইরে।
আমাদের মা আমেনার জীবন কেমন?
নুর-ছাওয়া!
কেন নুর-ছাওয়া?
কেননা, তিনি নুরনবির মা। শ্রেষ্ঠ নুরের ঠিকানা। নুরনবির জন্মের আগেই নুরের ঠিকানা—বাসর শেষে সকালে এই নুর আবিষ্কার করে খোদ আবদুল্লাহও তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন। আর মুহাম্মদের প্রসবকালে তো নুরে নুরে ভরে গিয়েছিল তার পৃথিবী! এ নুরের ধারা বিস্তৃত হতে হতে সুদূরের শাম নগরী বুসরাকেও ঝলকিত করে তুলেছিল! আল্লাহু আকবার!
না, মা আমেনার জীবনে কোনো অন্ধকার নেই! শুধু নুর আর নুর! এই নুরের কথাই বিধৃত হয়েছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়! আর ফুটে উঠেছে মা আমেনার কোলে শিশু মুহাম্মদের নুরময় শৈশবের এক দ্যোতিত চিত্র! পাশাপাশি শোক-বিহ্বলতার খণ্ড খণ্ড ছবিও হে পাঠক, আপনার চোখে পানি এনে দেবে! আবওয়ার শোক-বিগলিত অশ্রুধারার কথা, নবিপ্রেম-লালিত কলমের ভেজা ভেজা শব্দে বলতে গিয়ে লেখকের চোখও বারবার ভিজে উঠেছে!
গল্পে আঁকা মহীয়সী আমেনা—তাই বাংলাভাষার পালকে এক নতুন ও অভিনব সংযোজন। প্রিয় নবির আম্মাকে যারা জানতে চান বাংলাভাষায়, তাদের জন্য এই গ্রন্থ, একটি চমৎকার উপহার।
লেখক ইয়াইইয়া ইউসুফ নদভীর হৃদয়গ্রাহী গদ্যে এই বই হয়ে উঠেছে একটি বিশেষ ঘটনা বর্তমান সময়ের ইতিহাসে। পাঠককে সেই আনন্দময় ইতিহাসের পরিভ্রমণে স্বাগতম।
গল্পে আঁকা মহীয়সী খাদিজা
খাদিজা বেরিয়ে এলেন পণ্যশালা থেকে। বাইরের পোশাক পরলেন। ছুটে গেলেন সেই ওয়ারাকার কাছে আবার! গিয়ে সব বললেন তাঁকে, যা যা শুনে এসেছেন একটু আগে মায়সারার মুখে! ওয়ারাকা ঝলমল করে উঠলেন! ওয়ারাকার কণ্ঠটা চিৎকার করে উঠলো :
-খাদিজা! খাদিজা! বলেছিলাম না—মুহাম্মদ সাধারণ কেউ নয়!
খাদিজা বললেন :
-তাহলে কি তিনিই ভবিষ্যতের নবী?!
-আমার তো তা-ই বিশ্বাস! আসমানি কিতাব পড়ে যতোটুকু জেনেছি ও বুঝেছি, তাতে মনে হচ্ছে মুহাম্মদই শেষনবী! এ উম্মতের নবী! তাঁকেই আল্লাহ সবার উপরে ওঠাবেন! মহাসম্মানে ভূষিত করবেন!! আর এ মুহাম্মদই তোমার সেই স্বপ্নসূর্য! এবং তোমার ভবিষ্যৎ স্বামী!!
খাদিজা ফিরে এলেন গৃহে। সাথে নিয়ে এলেন দৃপ্ত অঙ্গীকার ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
নবুওতের সূর্যকে বরণ করে নিতে এখন তিনি পূর্ণ প্রস্তুত!
আল-আমীনকে ‘হাতছাড়া’ করা যায় না, কিছুতেই না!
আল-আমীন রত্ন! কিন্তু এই রত্ন না, সেই রত্ন—আকাশের রত্ন! সবচেয়ে দামি রত্ন! আমার স্বপ্নসূর্য! আমার ভবিষ্যতের নবী! আমার ভাবী স্বামী!
আল্লাহু আকবার!
সীরাতে আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা
হযরত আয়েশা রাযি.-এঁর প্রাথমিক অবস্থা, শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক ও দাম্পত্য জীবন, সৎ ছেলেমেয়ে ও সতিনদের প্রতি সদাচার, ইফকের ঘটনা, সংস্কারমূলক কার্যক্রম, কুরআনে ব্যূৎপত্তি, মাসাইল-দক্ষতা, ইজতিহাদ-ক্ষমতা, হাদীসে নববীর অগাধ জ্ঞান, ফিকহ ও কিয়াসে অসাধারণ প্রতিভা, চিকিৎসা-শাস্ত্রে পারদর্শিতা, বক্তৃতা ও কাব্যে মুনশিয়ানা, ফতওয়া প্রদানে পারঙ্গমতা, জগতের নারী সমাজের প্রতি তাঁর অবদান ইত্যাদি। এ-ছাড়াও আরও অনেক কিছু উঠে এসেছে অনিন্দ্যসুন্দর বিন্যাসে, গবেষণামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী কায়দায়; যার গুরুত্ব সে-যুগে এ-যুগে সমানভাবে অপরিসীম।
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এঁর ব্যাপারে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত একটি বিষয়— তাঁর বয়স। অর্থাৎ যখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনসঙ্গিনীর ভূমিকায় আবির্ভূত হন এবং উম্মুল মুমিনীনের তাজ মস্তকে ধারণ করেন তখন তাঁর বয়স কত ছিল? এ এমন এক প্রশ্ন, যার উত্তরে অনেকে অনেক কিছু লিখেছেন। আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রাহ. এ-বিষয়টিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছেন এবং এ-প্রসঙ্গে যত আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে এবং হতে পারে, বলিষ্ঠ যুক্তিপ্রমাণের ভিত্তিতে তার নিরসন করেছেন। বইটি প্রত্যেকের পড়া উচিৎ। বিশেষ করে নারী সমাজ বইটি পড়ে উপকৃত হবেন সবচেয়ে বেশি। এর পাতায় পাতায় গচ্ছিত আছে দীন ও শরীয়তের অমূল্য রত্নসম্ভার।
ফাতেমাতুয যাহরা গল্প ও ইতিহাস
কোনো জাতির নেতা হিশেবে তখনি একজন নিযুক্ত হয়, যখন এমন কিছু গুণাবলীর অধিকারী, যা দ্বারা সে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। আদর্শে বলীয়ান নেতার অনুসরণের মাঝেই অনুসারীদের কল্যাণ। তথাপি মানুষের কাজে ত্রুটি থাকে, নেতা হবার পরেও কখনো কখনো অনুসারীদের মধ্যে এমন অনেকে থেকে যায়, যারা নেতৃত্বে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু নেতা যখন এমন একজন নির্বাচন করেন, যিনি সর্বজ্ঞানী, প্রত্যেকের যোগ্যতা, গুণ সম্পর্কে শতভাগ জানেন, তাহলে কি সেখানে বেইনসাফির সম্ভাবনা আছে?
রসূল ﷺ-এর আদরের কন্যা ফাতেমাতুয যাহরা রাযি.। তিনি হবেন জান্নাতের নারীদের সর্দার। আল্লাহই তাকে নির্বাচন করেছেন। কেন? কী ছিল তার ব্যক্তিত্ব, যা কেয়ামত পর্যন্ত আসা সকল নারীদের ছাপিয়ে গেছে? কেমন ছিল তাঁর জীবন, যা তাঁকে প্রত্যেক যুগের নারীদের জন্য আদর্শের মূর্ত প্রতীক বানিয়েছে?
বই: ফাতেমাতুয যাহরা : গল্প ও ইতিহাস। ড.আয়েশা বিনতে আবদুর রহমান এবং আব্বাস মাহমুদ আল আক্কাদ এর সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থে ফুটে ওঠেছে সেই প্রশ্নের জবাবগুলো। তবে এ কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, এ গল্প ভালবাসার, বাবা-মেয়ের নিবিড় সম্পর্কের, কালজয়ী ইতিহাসের।