মহর আলী হাসে। এ হাসি ছুরির ধারের মতো। চমকায়। বিদ্যুৎ তৈরী হয়। সে একা দাঁড়িয়ে যায় নবীন ধান ক্ষেতের মধ্যে। চন্দ্রবোড়ার মতো ফুঁসে ওঠে। টানটান হয় কালো কুচকুচে তেল চকচকে পেশী। মহর আলী পেছন ফিরে তাকিয়ে থাকে। সঙ্গীদের খোঁজে। সামনে দেখে নেয়। আর দৃষ্টি সীমান্তের শেষ পিলারে গিয়ে পড়ে। সে এগোয়। দৌড়ের গতি বেসামাল। সামনে ইছামতি। জলের ধারা খুবই চিকন। এ পাশে ধান ক্ষেত বিচ্ছিন্ন গ্রাম। বাংলাদেশের শেষ গ্রাম সাদিপুর। নদীর ওপরে বাঁশ বাগান, কলা গাছের মিছিল। মহর আলী ইছামতিতে নামে। বুক সমান পানি। কোথাও কম কোথাও বেশি। লুঙ্গি খুলে মাথায় বাঁধে। মালের দিকে খেয়াল রাখে। পলিথিনে মোড়ানো। তারপরও যদি ভেজে তাহলে মহাজনের গালমন্দ শুনতে হবে। এ জন্যে সর্তক থাকা ভাল। সাঁতরে নদী পার হয়। এক নিশ্বাসে জয়ন্তীপুর পৌঁছায়।