মন খারাপ হয়েছে খরগোশের। হবে না কেন? সে তো আর বিড়ালের মত দুষ্টু না। কিন্তু বকাবকি খেতে হল তাকেই। বাড়ির গিন্নি মানুষ ভালো হলেও বাছ-বিচার করেন কম। টেবিলের গ্লাস ভাঙা দেখেই তার মাথায় রক্ত চড়ে গেল। টেবিলের কোনায় বসা খরগোশ তখনও পাতা কপির ডাঁটা চিবুচ্ছিল। শব্দ শুনে শুধু বিড়ালের লেজটা দেখতে পেল সে। আর কিছু দেখার আগেই গিন্নি-মা'র লাঠির বাড়ি এসে পড়ল মাথায়। কপির স্বাদ নেয়া তো দূরের কথা, জান বাঁচানোই দায় হল। সে-তো কবুতরের মত উড়তে পারে না। উপায়ন্তর না দেখে শেষে গিন্নি মা'র কোলেই ঝাপিয়ে পড়ল। ততক্ষণে তার গাল কেটে ঠোঁটের কোনায় রক্ত জমেছে। তারই এক ফোঁটা হাতে পড়তে গিন্নি মা আবার বাড়ি মাথায় তুলল ওরে, কে কোথায় আছিস; ডাক্তার ডাক। আমার টুসি মনিকে কে কামড়েছে, দেখে যা বা। শয়তান পুষিটা আবার গেল কোথায়। এ বুঝি তারই কাজ! সবাই ছুটে আসার আগেই গিন্নি-মা'র গলার স্বর পাল্টে গেল। নিজের দোষ ঢাকতে তিনি একটু ছলনা করলেন।