বেঁচে থাকা ও মরে যাওয়ার মাঝখানে একটি গর্ত। গর্তের মুখ বনজ ফুললতায় ঢাকা। নাক টানলে সুগন্ধ পাওয়া যায়। ফুলে প্রজাপতি ওড়াওড়ি করে। বাতাসে মৃদু দোল খায়। আমরা ঐ গর্তটি পাহারা দেই। আমরা চারজন। আমি। নরেশ। ইয়াসিন। সমর। বেঁচে থাকার পাড় থেকে যারা মরে যাওয়ার পাড়ে এসে পৌঁছায়, তাদের জন্য আমরা বসে থাকি। এলে গা-হাত-মুখ ধোয়াই। সেবা-যত্ন করি। হিরুঞ্চি ফিউনারেল সার্ভিসে চড়িয়ে এপাড় থেকে ওপাড়ে পৌঁছে দেই। মাঝে মাঝে যেসব রাত্রিতে আকাশে বিশাল চাঁদটা ওঠে, আর আমাদের পেটে তরল পানীয় পড়ে, আমরা পরিত্যক্ত মির্জা হাউজের ছাদে বসে নিজেদের নষ্ট হয়ে যাবার দুঃখে কাঁদি। এসময় আমার প্যান্টের গোপন পকেটে পড়ে থাকা একটি ছোট্ট চিঠি এবং কার্ড আমার হাঁটুতে খোঁচা দিয়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দেয়। তাদের গায়ে ল্যাপ্টে থাকা মৃদু মৌরির গন্ধ এসে ঝাপটা দেয় নাকে। মৌরির গন্ধটি নাকে টানতে টানতে আমি ঠিক করি, কোনো একদিন ভেসে যাওয়া পূর্ণিমায় গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসব। পকেট থেকে কার্ড আর চিঠিটি বের করে বাকি তিনজনকে বলব, চল, হাঁটা ধরি। ওরা উঠতে উঠতে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবে, কই যাবি? কোন দিকে-
আমি রহস্য করার গলায় বলব, যেদিকে মৌরির গন্ধ, সেদিকে-