মনের গোপন ব্যাথা-বেদনা, শোক ও দ্রোহের বাসনা-সবকিছুকে পিছনে ফিরে দেখলে মনে হতে পারে, কতো মৃত্যুকেই বরণ করে এসেছি! এই প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিকে তর্কে আলিঙ্গন করে নয় বরং আত্ম-অভিজ্ঞতার নিরিখে ছন্দবদ্ধ করার যে প্রয়াস- এখানে তার নাম “‘মৃত্যু এক দারুণ রোমান্স।” কবিতা উপভোগের সৌন্দর্য সৃষ্টি করে মাত্র। আসমা সুলতানা শাপলার লেখা সংকলনে প্রেমের এপিঠ ওপিঠ সমান্তরাল। সঙ্গ চাওয়ার মাঝে কন্ঠজুড়ে প্রেমীর নামকে সম্বল করে রাখা আছে, বলা আছে, ভালবাসার দরজা খোলা রেখে দেই।
তুমি তুমি তুমি নামে তবু যে প্রেম থেকে গেছে। নিখোঁজ সংবাদ কবিতাটায় আছে, তোমার কোনও খবর নেই, উড়ে গেছো হাওয়ায়? আবার প্রেমই একমাত্র বস্তুজাগতিক না। প্রায়োগিক জীবনরেখায় কঠিন বাস্তবের সামনে কবি আসমা সুলতানা শাপলা পুরাপুরি রাজনৈতিক। সকল অসভ্যতারে মানব আর দানবে চিহ্নায়িত করতে গিয়ে কবি কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানির মরদেহকে স্মরণ করেন। বিপ্লবী হয়ে ওঠেন পুঁজিবাদী দালালির বিরুদ্ধে। কবিতাও শেষপর্যন্ত ভাষা, তবু তাতে সুর আর স্বরের প্রক্ষেপণ মিশিয়ে এ-যাত্রায় পাঠককে কম্পিত করবে প্রেমের সান্নিধ্য, বিচ্ছেদ, অবশিষ্ট পূর্ণতা ও দ্রোহের ভিতর জাগতিক চেতনা। কবিতায় অতিক্রম করে আসা এইসব ঘটনাগুলোকে মৃত্যুর রুমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় সুখপাঠ্য করা যেতে পারে।