০১ মার্চ, ১৯৭১। সোমবার। আর মাত্র দুদিন বাকী। নির্বাচিত গণপ্রনিধিদের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৩ মার্চ। চৈত্রের দুপুর। গনগনে সূর্যটা একটুখানি পশ্চিমে গড়িয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ০১.০৫ মিঃ। চৈত্রের উত্তপ্ত হাওয়ার সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়লো একটা দুঃসংবাদ। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্হগিত ঘোষণা করেছেন। রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় বলা হয়-" পাকিস্তানে এখন ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
তাই আমি জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলাম"।" ২৪ বছরের শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত বাঙালির ০১ স্বাধিকার আন্দোলন তখন তুঙ্গে। এ সময় আকস্মিক আঘাতের মতো লাগলো ইয়াহিয়ার ঘোষণা। রাজনৈতিক নেতা কর্মীরাও অপ্রত্যাশিত বজ্রাঘাতের মতো পাকজান্তার ঘোষণায় স্তম্ভিত হয় পড়ে। কিন্তু বাঙালি চির বিদ্রোহী। মাথা নোয়াবার নয়। মুহুর্তের মধ্যে সর্বস্তরের গণমানুষ নেমে পড়ে রাস্তায়। বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলন নতুন মাত্রায় বেগবান হয়ে উঠলো।