সমুদ্র মেখলা স্রোতস্বিনীর ধারা-স্পর্শী নীল বনাচ্ছন্ন এক ভূমি। কবে সেই সৃষ্টির আদিতে যখন তৃতীয় হিমবাহর যুগ অতীত হয়ে পৃথিবীর বুকে নেমেছে সোনালী বসন্ত, কিন্তু তখনও জন্মলগ্নের আলোড়ন হিমালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব সীমানায়, সেই জন্মলগ্নের বেদনা-আনন্দের মধ্য দিয়ে নীল জলধির বুক চিরে দেবী ভেনাসের মত জেগে উঠেছিল এই ভূখণ্ড। পাষাণ পর্বতের অন্তঃস্থল থেকে যে পয়োধর সদৃশ্য স্নিগ্ধ ধারা কিশোরীর চঞ্চলতার নৃত্যছন্দে স্বচ্ছ শরীরে ঘর ছেড়েছিল সেই ক্ষীণাঙ্গী ধারাই পূর্ণ যৌবনা হয়ে জন্ম দিল এক সুবর্ণ পলিখণ্ড-সমতট। এই শ্যাম ভূখণ্ডের দিগন্ত বিস্তৃত তরুরাজির শাখায় দোয়েল শ্যামা ফিঙে শিস দিয়ে গান গায়। নদীতীরের ঘাসের বনে ঝাঁক বেঁধে ঘুরে বেড়ায় হলুদ- সাদা ছিটের হরিণেরা। শণ আর হিন্তাল বনের আবছায়ায় আবছায়ায় নরম নরম আঠাল মাটিতে হিংস্র নখের ছাপ এঁকে ফেরে ডোরাকাটা শার্দুল। দ্বিপ্রহরের স্নিগ্ধতাকে কম্পিত করে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষুধার্ত পশুরাজ। সমতটে উত্তর-পূর্বের ঢেউতোলা টিলার লাল মাটিতে পায়ের খুরের