আদর্শ মুসলিম:
ইসলাম মানুষের আদর্শ ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে। এরপরও দেখা যায়, ইসলাম মুসলমানদের থেকে যা চায় আর মুসলমানরা নিজেদের জন্য যা চায়―এ দুইয়ের মাঝে রয়েছে বিস্তর তফাৎ। অবশ্য অল্পসংখ্যক লোক, যাদের আকিদা বিশুদ্ধ, ইসলাম সুন্দর, অন্তর পরিশুদ্ধ ও মানসিকতা উন্নত; তারা ইসলামের দাবি ও চাওয়া অনুযায়ীই জীবনযাপন করে থাকেন। সুতরাং ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলমানকে এমনই হতে হবে, যেমনটি ইসলাম কামনা করে। এর জন্য কুরআন ও হাদিসে যেসব উত্তম স্বভাব-চরিত্র ও গুণাবলির প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে সেগুলো অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।
ইসলামের আলোকে একজন আদর্শ মুসলিমের পরিচয় কেমন হবে, এ বিষয়টি স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই সিরিয়ার প্রখ্যাত শাইখ ড. মুহাম্মাদ আলি হাশিমি রহ. মুসলমানদের জীবনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আয়াত, হাদিস ও আসারের আলোকে রচনা করেছেন বৃহৎ কলেবরের গ্রন্থ ‘শাখসিয়্যাতুল মুসলিম’ বা ‘আদর্শ মুসলিম’। এতে প্রভুর সাথে মুসলমানের সম্পর্ক কেমন হবে, নিজের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক কেমন হবে, পিতা-মাতার সাথে মুসলমানের সম্পর্ক কেমন হবে, স্ত্রীর সাথে মুসলমানের সম্পর্ক কেমন হবে, সন্তানদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক হবে, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক হবে, ভাই-বন্ধুদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক হবে―সকল বিষয় সম্পর্কেই উঠে এসেছে বিশদ আলোচনা। যাতে মুসলমানদের সামনে; বিশেষ করে প্র্যাক্টিসিং মুসলমানদের সামনে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় এবং নিজেদের ভুল ও ত্রুটিগুলো উপলব্ধি করে ইসলামের অমীয় সুন্দর চরিত্রে নিজেদের ভূষিত করতে পারে।
মুমিনের ক্যারিয়ার ভাবনা:
কেমন হবে একজন খাঁটি মুমিনের ক্যারিয়ার? কী হবে তার জীবনের লক্ষ?
ক্যারিয়ার মানেই আমরা বুঝি টাকা এবং সম্মান। ক্যারিয়ারের মধ্য দিয়ে মানুষ সম্মান খোঁজে, ক্যারিয়ারের মধ্য দিয়ে মানুষ টাকা খোঁজে। কিন্তু ক্যারিয়ারের মধ্য দিয়ে সম্মান খোঁজা, ক্যারিয়ারের মধ্য দিয়ে টাকা খোঁজা, এটা মুমিনের লক্ষ হতে পারে না। কারণ, মুমিন বিশ্বাস করে, টাকা আসে আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে। রিজিক আসে আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে এবং সম্মানও আসে আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে। আল্লাহ তাআলা রিজিকেরও মালিক, সম্মানেরও মালিক।
এটা আল্লাহ তাআলা যে কাউকে ক্যারিয়ার ছাড়াই দিতে পারেন, এটা আমাদের বিশ্বাস।
সুতরাং আমাদের ক্যারিয়ারটা হবে অন্যান্য মানুষের চেয়ে আলাদা। একজন মুমিনের ক্যারিয়ার হবে মূলত দুইটা উদ্দেশ্যে, একটা হচ্ছে দাওয়াহ, আরেকটা হচ্ছে, সাদাকাহ। একজন মুমিন উপরে উঠবে, অনেক উপরে উঠবে। একজন মুমিন সম্পদ উপার্জন করবে, অনেক সম্পদ উপার্জন করবে, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তার লক্ষ্য থাকবে দুইটা। একটা হচ্ছে, সদাকাহ করা, এবং দুই নম্বরে হচ্ছে, দাওয়াহ করা। দ্বীনের দাওয়াহ করা। মানুষের কাছে দ্বীনটাকে উপস্থাপন করা।